মিরপুরে ২ নারী হত্যা : পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার দুজন

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় নিহত গৃহকর্ত্রী কমলা বেগম (৬০) ও গৃহকর্মী সুমির (২০) লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। দুই নারীকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। এদিকে সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় হত্যার ঘটনা জড়িত দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় রমজান আলী (২০) ও ইউসুফ আলী (২০) নামে তরুণদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রমজান ও ইউসুফ মগবাজারে একটি বাসায় লুকিয়ে ছিলেন। পালিয়ে তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। রমজান ভোলার ও ইউসুফ পটুয়াখালীর বাসিন্দা। দুজনই নির্মাণশ্রমিক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি পুলিশের পল্লবী অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদত হোসেন গণমাধ্যমে জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রমজান ও ইউসুফ ওই দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।গ্রেপ্তার তরুণদের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের ওই বাসায় প্রতিদিন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। মঙ্গলবার তারা সেখানে যান। টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই দুই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

এদিকে আজ ওই দুই নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক কেএম মাইনুউদ্দিন ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর-২ এর একটি বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মিরপুর-২ এর দুই নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলায় থাকতেন তারা।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক কেএম মাইনুউদ্দিন দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘দু’জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রাহিমা বেগমের (৬৫) গলার দু’পাশে কালো দাগ রয়েছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।তিনি বলেন, ‘গৃহকর্মী সুমির শুধু গলার দু’পাশে দাগ রয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না (হাই ভেজানো সপ) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ডিএনএ’র নমুনা ও ব্লাড সংগ্রহ করে তা প্যাথলজিতে পাঠানো হবে।

পরে রাহিমার মেয়ে রাশিদা তার মায়ের মরদেহ নিয়ে যান। গৃহকর্মী সুমির স্বজনরা এখনো আসেনি। পরে এসে তারাও লাশ নিয়ে যাবে।

Sharing is caring!