মা-মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ব্ল্যাকমেইল : যুবকের ৫ টুকরা লাশ

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১

বার্তা ডেস্ক :: রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে সজীব হাসান নামে এক যুবকের ৫ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার শাহনাজ পারভীন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে সজীব হাসানকে হত্যার ঘটনায় তার খালু নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় শাহনাজ পারভীনকে।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার দুপুরে শাহনাজ পারভীনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঘুমন্ত সজীবকে হত্যা করা হয় : ৪৯/২ আর কে মিশন রোডে শাহনাজের বাসা। প্রায় দুই বছর ধরে কে এম দাস লেনের ১৭/১ নম্বর বাড়ির চার তলার বাসায় গিয়ে সজীবের সঙ্গে ড্রেসে পুঁথি বসানোর কাজ করতেন তিনি। তার ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে আর দুই ছেলে চাকরি করেন। স্বামী ব্যবসা করেন। সজীবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিছুদিন হলো সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সজীবের বাসায় সময় কাটাতেন তিনি। রাতের বেলা বাসায় ফিরলে পরিবারের লোকজন জিজ্ঞেস করলে তাদের বলতেন, তিনি পুঁথি বসানোর কাজ শিখছেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি বাইরে ছিলেন। ড্রেসে পুঁথি বসানো এবং বাসায় এসে কিছু ড্রেস দিয়ে যাওয়ার সুবাদে সজীবও তার বাসায় যাতায়াত করতেন। এর মধ্যে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে সজীবকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করেন। এক পর্যায়ে সজীব মোবাইল ফোন থেকে তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করার ভিডিও দেখায় তাকে। এটা দেখে তিনি লজ্জায় পড়েন। সজীবকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কিভাবে করবেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

 

এ অবস্থায় সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্যাগে কাপড় ভরে তিনি সজীবের বাসায় ওঠেন। বুধবার রাতে একসাথে ঘুমানোর আগে সজীবকে তার মোবাইল ফোন থেকে মেয়ের ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে দিতে বলেন। তখন সজীব তাকে জানায় যে যদি তার মেয়েকে ওই বাসায় আনতে পারে তবেই ভিডিও ডিলিট করা হবে। তখন সজীব তার মোবাইল ফোন থেকে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখায়। সেটা দেখিয়ে সজীব তার স্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে বলে। এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করার এক পর্যায়ে সজীব ঘুমিয়ে পড়ে। তখন তিনি রান্নাঘর থেকে বটি এনে ঘুমন্ত সজিবকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।