মানসিক প্রতিবন্ধী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, মিলছে না পরিচয়

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯

পরনে ছেঁড়া ময়লা কাপড়। মাথার কাছে কয়েকটি পুটলি নিয়ে অসুস্থ শরীরে খালি চৌকির উপর শুয়ে কাতরাচ্ছে এক তরুণী। বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। কালো মলিন চেহারার এই মানুষটিকে দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছে মানুষ। এর মধ্যে এক ব্যক্তি দুই পিস পাউরুটি এনে দিলেন তাকে। প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হওয়ায় ওই তরুণী কোনো দিকে না তাকিয়ে নিমিষেই খেলেন।টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া বাসস্ট্যান্ডে আজ বুধবার এমন দৃশ্যের দেখা মিলে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তরুণী মানসিক প্রতিবন্ধী। স্থানীয়রা তাকে নিয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মর্জিনা বেগম প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে বলেন তরুণী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিকভাবেও অত্যন্ত দুর্বল তিনি। জ্বরে আক্রান্ত তরুণীর সুচিকিৎসা প্রয়োজন। মর্জিনা জানালেন, এভাবে পথে পথে ঘুরতে থাকলে মারা যেতে পারেন তিনি।

এদিকে নাম, পরিচয়, গ্রাম, ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণী। ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরার কারণে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। আবার অনেকে ধারণা করছেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন তিনি।উপজেলার মাইস্তা গ্রামের জমশেদ আলী নামে এক ব্যবসায়ী জানান, গত দুদিন ধরে তাদের এলাকায় তরুণীকে ঘুরতে দেখন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ওই তরুণী এলাকার লোকজনের কাছে খাবার চাচ্ছিলেন। পরে তিনি বাড়িতে নিয়ে ভাত খেতে দেন। তিনি যে গর্ভবতী হয়েছেন, তা সবাইকে আকার ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, ‘যদি এই মানসিক প্রতিবন্ধী ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকে, তবে অপরাধীদের খুঁজে বের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধি রোধ করা সম্ভব হবে না। ধর্ষণের ফলে মেয়েটির বাচ্চা হলে এর দায়ভার কে নেবে কিংবা বাচ্চাটি কার পরিচয়ে বড় হবে?এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় থানায় জিডি করার পর অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে গাজীপুরের পুবাইলে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রসবের পর বাচ্চাটিকে এতিমখানায় লালন-পালনের জন্য দেওয়া হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব। সেইসঙ্গে মেয়েটির পরিচয় পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।