মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় ববি শিক্ষার্থীর ওপরে হামলা, প্রতিবাদে একাট্টা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

বাড়ির পাশে মাদকের বিক্রি বন্ধে সোচ্চার হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এতে ওই শিক্ষার্থী.তাঁর বৃদ্ধ মা (৫২) সহ গুরুতর জখমের শিকার হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যরা। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার,আহতদের সুচিকিৎসা ও শিক্ষার্থীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে স্থানীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতাই এই হামলার অন্যতম কারু বলে উল্লেখ করেছেন আহত শিক্ষার্থী আমির হামজা (২১)।

হামলার ঘটনাটি যশোরের ঝিকরগাছা থানাধীন পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামে। হামলার শিকার ববির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হামজা জানান, তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী জায়গায় এলাকার প্রভাবশালী একদল যুবক নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবনের কাজ করতেন। এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গত রোববার (২৪ আগস্ট) তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা হয়। হামলায় তাঁর মা আফরোজা বেগম, বাবা মুনতাজ আলী, বড় ভাই হাসিবুর রহমান, বোন রাবেয়া ও তিনি আহত হন।

আমির হামজা সহ তাঁর বাবা ও বোন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও হামলায় আহত বড় ভাই হাসিবুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত সোমবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন। হামজার মা এখনো যশোর সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলায় চিকিৎসাধীন। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগায় তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। মাকে কোলে করে হাসপাতালে আনার সময় রক্তে হামজার গেঞ্জি ভিজে যায়। এই হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত মায়ের রক্তে ভেজা পোশাক বদলাবেন না বলে জানিয়েছেন হামজা।

এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষক – শিক্ষার্থীরা । হামজার জন্য বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দীন জানান, এমন জঘন্যতম হামলার ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করছেন তিনি। এই শিক্ষক বলেন,‘ বর্তমান প্রধানমন্ত্র¿ী স্বয়ং নিজে যেখানে দেশে মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ করেছেন সেখানে আমির হামজার মাদক বিরোধী অবস্থানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উচিত তাঁর পাশে থাকা এবং তাঁর পরিবারের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা ’। এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আমির হামজার সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন এই শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.সুব্রত কুমার দাশ বলেন,‘ গত রোববার রাতে ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশনায় স্থানীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের ও আক্রান্ত পরিবারের নিরাপত্তা বিধানের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। হামজার মায়ের সুচিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে’। এছাড়া হামজার যেকোনো আইনি সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভূমিকা বলে নিশ্চিত করেছেন এই শিক্ষক। তিনি প্রত্যাশা করেন স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকায় হামজা ও তাঁর পরিবার সুবিচার পাবেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান বলেন,‘ কোনো সভ্য সমাজে একটি পরিবারের সকলের ওপর এমন নারকীয় হামলা মেনে নেয়া যায় না। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এই ঘটনার সুরাহা করা’। এই শিক্ষার্থী জানান, তারা হামজার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা সংগ্রহ শুরু করেছেন।

তবে আহত হামজা দাবি করেন স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার জন্যই তাঁদের ওপর এমন হামলা হয়েছে। তিনি বলেন,‘আমাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নির্জন জায়গায় নিয়মিত মাদক বিক্রির ঘটনা উপজেলার সদ্য সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে গতবছর জানানো হয়। পরবর্তীতে তিনি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এখান থেকে মাদক বিক্রি দূর করেন। এই কর্মকর্তা সম্প্রতি বদলি হবার পর পুরনো ক্ষোভের রেশ ধরে গত শনিবার প্রথম আমার বোনকে আহত করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। সেই ঘটনা থানায় জানালেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয় নি। বরঞ্চ থানায় অভিযোগ করার প্রতিশোধ নিতে পরদিন স্থানীয় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা আদম, বাবু, হাবু, রিমন, বখতিয়ার, রোকন, আকাশসহ স্থানীয় ১৫-২০ জন আমাদের বাড়িতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়’।

Sharing is caring!