মাঝ নদীতে এমভি সুন্দরবন-১০ এর উপর আছড়ে পড়লো মানামী

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

*যাত্রীদের অল্পতে রক্ষা
    *দুই লঞ্চের যাত্রা বাতিল
      *৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের দুটি বিলাসবহুল লঞ্চ এমভি সুন্দরবন ও এমভি মানামী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি লঞ্চের পেছনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গেছে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।

যদিও দুর্ঘটনার জন্য এমভি মানামী লঞ্চ স্টাফদের দায়ী করেছে সুন্দরবন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন মানামী লঞ্চের সংশ্লিষ্টরা। তাই এই ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন-১০ লঞ্চের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম ঝন্টু। অভিযোগপত্রে লঞ্চটির প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি লঞ্চের যাত্রা স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত পরবর্তী সার্ভে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত উভয় লঞ্চ চলাচল না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নৌ পুলিশ এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চ দুটি পরিদর্শন করেছে।

পরিদর্শন শেষে কমিটির সদস্য ও বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, ‘দুর্ঘটনায় সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাঝামাঝি বাম পাশের অংশ ও মানামী লঞ্চের পিছনের প্লান্টারের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লঞ্চ দুটি মেরামতের পরে সার্ভে কর্তৃপক্ষকে দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা যাচাই-বাছাই করে ত্রুটিমুক্ত মনে করলে লঞ্চ দুটি পুনরায় নৌ পথে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাছাড়া দুর্ঘটনা লঞ্চে থাকা কোন যাত্রী হতাহত হননি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র এই কর্মকর্তা বলেন, ‘লঞ্চ দুটিতে দুই হাজারের মতো যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরে লঞ্চটিকে বরিশাল নদী বন্দরে নিয়ে আসা হয়। পরে তদন্ত কমিটি দুটি লঞ্চই পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
অপরদিকে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড চিফ সার্ভেয়ার আবু হেলাল সিদ্দিকী জানান, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চ দুটি মেরামত করতে হবে। এরপর সেগুলো চলাচলের উপযোগী কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হবে।

এদিকে সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান জানান, ‘ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তারা। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে মেঘনার ইলিশা লাল বয়া পয়েন্টে পৌঁছায় সুন্দরবন-১০। এসময় সেখানে পানি কম থাকায় তিনি লঞ্চের গতি কমিয়ে ফেলেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ চ্যানেলের মধ্যে এমভি মানামী লঞ্চ দ্রুত গতিতে এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চকে অতিক্রম করে চরে আটকে যায়।

তিনি বলেন, ‘চরে আটকে যাওয়া মানামী লঞ্চটি পূর্ণ গতিতে পেছনের দিকে ধাবিত করা হয়। এসময় দ্রুত গতিতে এসে পেছনে থাকা সুন্দরবন-১০ এর উপর আছড়ে পড়ে মানামী। এতে সুন্দরবন-১০ এর মাঝ বরাবর অংশ দুমড়ে মুচড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সতর্কতার কারণে যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।

অপরদিকে মানামী লঞ্চের মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনার জন্য আমাদের কোন অবহেলা বা দায় নেই। কেননা আমাদের লঞ্চ পেছনে যাওয়ার পূর্বে ভিএইচএফ এর মাধ্যমে সুন্দরবন-১০ কে অবহিত করা হয়েছিল। এসময় তাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেও বলা হয়। কিন্তু ওই লঞ্চের সংশ্লিষ্টরা আমাদের নির্দেশনার গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।