মাঘের শীতের কাঁপুনি শুরু

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ দেশের উত্তরাঞ্চলে বইছে তীব্র শৈত্য প্রবাহ। যার প্রভাবে মাঘের শীতে কাঁপছে বরিশাল। থেমে থেমে বয়ে যাওয়া দমকা বাতাসে হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা অনুভূত হয়েছে রোববার সারাদিন। যা চলবে আরো দুদিন। আর এমন হিমশীতল আবহাওয়া বিপাকে ফেলছে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষদের। বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা। অতিরিক্ত শীতে আমাদের প্রচলিত অভ্যাস গুলো বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি। সাধারণত শীতের দিনে বারবার হাত ধোয়া কিংবা নিয়মিত গোসল করার অভ্যাস চলমান রাখা একটু কষ্টদায়ক। এই ব্যাপারটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল গত ২৯ ডিসেম্বর। সেদিন সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রোববার সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল এখানে। যা শনিবার ছিল ১০ দশমিক ৩ এবং আগের দিন ১০ দশমিক ৫।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পর্যবেক্ষক শওকত জাহান গাজী জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বইছে শৈত্য প্রবাহ। যার কিছুটা প্রভাব পড়েছে বরিশালে। যে কারণে শীতের সাথে সাথে হালকা হিম শীতল বাতাস বয়ে গেছে।

 

আগামীকাল থেকে শীত আরো বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার। তিনি জানান, বরিশালে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বিরাজ করছে। এর সঙ্গে হিমালয় থেকে আসা হিমশীতল বাতাস শীতের অনুভূতিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন অবস্থা আরো দুই থেকে তিনদিন থাকতে পারে।

 

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ তানজিন হোসেন জানান, শীতকালে সাধারণত আমরা পানির সংস্পর্শে কম আসি। সকলের চেষ্টা থাকে হাত -পায়ে কম পানি লাগানো এবং নিয়মিত গোসল এড়িয়ে যাবার। কিন্তু করোনা জীবাণু থেকে মুক্ত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বেশি জরুরী। সেক্ষেত্রে শীতকালীন এসব অভ্যাস করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর এই শীতে সবচেয়ে কষ্ট পাচ্ছে এ অঞ্চলের নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষজন। রোববার সরেজমিনে নগরীর লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল এবং পলাশপুর বস্তিতে গিয়ে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষেরা তীব্র শীতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে।