মহিপুর ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ-স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা প্রতিনিধি ::

মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বাকীমাত্র ৩ দিন। শেষ মুহূর্তে প্রচার প্রচারণায় মুখরিত নির্বচনী জনপদ। ভোট প্রত্যাশায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী আঃ মালেক আকন্দ ও স্থানীয় বিএনপির অঘোষিত সমর্থন নিয়ে ভোটের মাঠে থাকা আনারস মার্কার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী ফজলু গাজী। নিজ নিজ বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইসতেহার নিয়ে দিন-রাত সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদের কর্মী সমর্থকরা। উন্নয়ন ও কর্ম-পরিকল্পনার ফুলঝুড়ির বাণী নিয়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় প্রার্থীরাও ঘুরছেন সকাল থেকে রাত অবদি। চায়ের আড্ডায় চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ আর নানা জল্পনা-কল্পনা। সমুদ্র বেষ্টিত অবহেলিত এ জনপদের যিনি উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন তাকেই বেছে নিবেন ভোটাররা। তবে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে- এমন ধারণা ভোটারদের।

প্রমত্তা আন্ধারমানিকের কড়ালগ্রাস আর অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনুন্নত জনপদের ইউনিয়ন মহিপুর। যেখানে বছরের ৬ মাস থাকে জনদুর্ভোগ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া ভঙ্গুর অবস্থায় হতে চলছে নির্বাচনটি। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আঃ মালেক আকন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী মোঃ ফজলু গাজী মহিপুর থানা বিকএনপির সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও কৌশলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেই নেতা কর্মীরা মাঠে রয়েছেন। এছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ আসনে ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ৮ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

নজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ বলেন, যারা নদী ভাঙন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নসহ আমাদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবেন, সেই যোগ্য সৎ নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিকে ভোট দেব। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ফজলু গাজী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে কলাপাড়া প্রেসক্লাবে এক লিখিত সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কিনা- এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আঃ মালেক আকন্দ স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ নাকচ করে বলেন, নির্বাচন অত্যন্ত ও নিরপেক্ষ হবে। সুতরাং আওয়ামী লীগের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে এখানে। এতে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব। তিনি আরো বলেন, এলাকার যত উন্ন্য়ন হয়েছে তা সবই এ সরকারের অবদান। যখনই সুযোগ পেয়েছি, এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছি। নির্বাচনে ভোটারদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পাচ্ছি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, আগামি ২০ অক্টোবরের নির্বাচনে মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৭শ’৬৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৫শ’৯৩ জন এবং ৭ হাজার ১শ’৭৬ জন নারী ভোটার রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯টি ভোট কেন্দ্রে ৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪২জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার থাকবেন। এ ছাড়া ৮৪ জন পোলিং অফিসার এবং ১শ’৭১ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নির্বাচনের দিন মাঠে থাকবেন।

Sharing is caring!