মশার প্রকোপে নগরবাসীর নাভিশ্বাস


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥

বরিশাল নগরীজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মশার প্রকোপ। নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে মশার কামড় এবং মশা বাহিত রোগ থেকে নিজেদের বাঁচাতে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে বাজারে প্রচলিত কীটনাশক (মশার কয়েল, স্প্রে ইত্যাদি) মশা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টরা মশা নিধনে মশার প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাঁধা দেবার পরামর্শ দিয়েছেন। জানাগেছে, শীত পরবর্তী এবং বর্ষার আগাম মৌসুমে মশা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে সাধারণ প্রক্রিয়ায় মশা নিধন সম্ভব না হওয়ায় এখন ‘মশা মাড়তে কামান চালানোর’ মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে নগরবাসীর। প্রচলিত কীটনাশকের বিরুদ্ধে মশার সহনশীলতা সৃষ্টি হওয়ায় সহজে নিস্তার পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে । এক্ষেত্রে জলাবদ্ধ বা অপরিষ্কার জায়গা গুলো যেন মশার প্রজননকে আরো বৃদ্ধি না করতে পারে সে ব্যাপারে ভাবছে সকলে। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘ নগরী জুড়ে মশার অসহনীয় প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ যেমন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়ায় আক্রান্তের শঙ্কা। বাজারে প্রচলিত কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় মশক নিধনে শহরের দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি’। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব রসায়ন ও প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড.রেহানা পারভীন জানান, একই ধরণে কীটনাশক দীর্ঘদিন মশার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার ফলে মশার জীববৈচিত্র্যে এক ধরণের সহনশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই দেখা যাচ্ছে প্রচলিত কয়েল বা স্প্রে এখন আর মশা প্রতিরোধে কার্যকর ফল দিচ্ছে না। এই বিশেষজ্ঞ শিক্ষক বলেন, ‘ বাজারে প্রচলিত কীটনাশকের চেয়ে আরো বিষাক্ত কিছু এখন মশা প্রতিরোধে ব্যবহার করার প্রয়োজন । তবে এত বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহে খারাপ প্রভাব ফেলবে। তাই মশার জন্ম বা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এর বিস্তার রোধ করা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভাবতে হবে এখন থেকে’। এদিকে সবুজ আন্দোলন সংগঠনটির বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি কাজি ফিরোজ বলেন, ‘মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত মশার প্রজননক্ষেত্রে আঘাত করা৷ বদ্ধ জলাশয় সচল করা বা অপরিষ্কার যেসব জায়গা মশার বিস্তারে সহায়তা করে সেসব জায়গায় কীটনাশক ছিটানো। একইসঙ্গে নগরবাসীর উচিত নিজ নিজ বাসস্থান ও এর আশেপাশের জায়গা গুলো পরিষ্কার রাখা।  মশা লাভা নিষিক্ত করতে পারে এমন জায়গাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া’৷ তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নগরীর মশক নিধনে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ফগার মেশিনের মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কীটনাশক  স্প্রে করা হচ্ছে। যেসব জায়গা অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশার বংশ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে সেসব জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবার প্রক্রিয়া চলছে।