মরদেহ বহনের ছবি ভাইরাল, পুলিশের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: 7:01 PM, November 24, 2019

সাধারণত কোনো মরদেহ বহনের সময় কাপড় দিয়ে ঢাকা বা কফিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। তবে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দুই যুবককে একটি মরদেহ বহন করতে দেখা গেছে, কিন্তু তা ছিল উন্মুক্ত!

গতকাল শনিবার সকালে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর বাঙ্গাল রেলওয়ে ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ। ছবিতে দেখা যায়, দুই যুবক কাঁধে করে মরদেহটি বহন করছেন। কিন্তু সেটি কোনো সম্মানজনক অবস্থায় নয়।উন্মুক্ত মৃতদেহটির পা মাটিতে ছুঁয়ে যাচ্ছে।মরদেহের প্রতি এমন অসম্মানজনক ছবিটি ভাইরাল হলে পুলিশের মানবিকতা ও কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র।

ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন নাইম পারভেজ অপু নামে এক ব্যক্তি। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ছবিটা দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। এর বিচার চাই।সালেহীন বিপ্লব নামে একজন ব্যবহারকারী তার ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে লেখেন, ‘মরদেহের প্রতি এমন অসম্মান দেখে মানুষের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এটা কাম্য নয়। বাসুদেবপুর বাঙ্গাল রেলওয়ে ব্রিজের নিচ থেকে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। কিন্ত একটা মৃতদেহ দড়ি দিয়ে বেঁধে এভাবে ঝুলিয়ে নিতে বিবেক বাধলো না ওদের? ওরা কি এ দেশের নাগরিক নয়?

জানা গেছে, মরদেহটির খবর পেয়ে সেটি উদ্ধারে দুই যুবককে পাঠায় সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বনাথ কুমার বলেন, জনবল না থাকায় স্থানীয় দুই যুবককে দিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে অবশ্যই আমরা কফিন ব্যাগে মরদেহ ভরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই।’

বিষয়টি নিয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির জানান, সকালে স্টেশনের ২৩৬ নম্বর ব্রীজের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সান্তাহার জিআরপি পুলিশে খবর দেয়। জিআরপি থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সদর মর্গে প্রেরণ করে। মরদেহের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

Share Button