মঠবাড়িয়ায় ৫ দিনেও ট্রিপল মার্ডার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ!

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

মিজানুর রহমান মিজু, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি  ::

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর অটো চালক আয়নাল হক (৩৫), তার স্ত্রী খুকু মনি (২৫) ও তাদের ৩ বছরের একমাত্র শিশু কন্যা আশফিয়ার হত্যার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এ খুনের নেপথ্যের কারণ বের করতে পারেনি থানা পুলিশ। যদিও পুলিশ এ তিন মার্ডারের পর নিহতের আপন ভাই কাঁচামাল ব্যবসায়ী হেলাল হাওলাদার (৪০), চাচাত চাচা ভ্যান চালক আঃ মালেক হাওলাদার (৫৫), চাচাত ভাই কৃষক বেলাল (৪০), প্রতিবেশী মাহবুব (১৯) ও আ. রহিম (১৬) ও শামিম (২৬) কে গত ৫ দিন ধরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কিন্তু তারা এ হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতার কোন তথ্য দিচ্ছেন না।
এদিকে তিন খুনের ঘটনায় ওই দিন শুক্রবার রাতে নিহত আয়নালের শ্বশুর (খুকুর পিতা) চিত্রা গ্রামের আবুল কালাম সর্দারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে সংঘটিত হওয়া এ হত্যার ক্লু বের করতে সিআইডি, ডিবি, পিবিআই, র‌্যাবসহ থানা পুলিশের একাধিক টিম এ খুনের নেপথ্য কারণ ও খুনিদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে। কিন্তু হত্যার নেপথ্য ক্লু এখন পর্যন্ত বের করতে পারছে না।

এদিকে আপন ভাইসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য ৫ দিন ধরে আটকের ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসীরা জানান, নিহত আয়নালের বাবা উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রত্তন হাওলাদার ১৫/১৬ বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ৪ পুত্রের মধ্যে সু-সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। আয়নালের ছোট ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী জয়নাল (২৮) দু’মাস আগে প্রবাসে বসে স্ট্রোকে মারা যান। গত একমাস আগে দেশে এনে ওই ভাইয়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এ শোক কাটতে না কাটতেই দরিদ্র পরিবারের আরেক ভাইয়ের সপরিবারে হত্যায় এলাকাবাসী স্তম্ভিত।

ধানীসাফা ইউপির ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মানিক বিশ্বাস বলেন, একের পর এক শোকের মধ্যে নিহতের বড় ভাই হেলালকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন ধরে আটকের ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটিসহ বাবা মার নির্মম মৃত্যুর ঘটনা তাদের ঈদুল আজহার আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে।

এদিকে গত শনিবার সকালে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আ.জম. মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, এ ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যের সুস্পষ্ট কারণ পাওয়া না গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের চাচা আব্দুল মালেক ও শামিম কে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খাঁন বলেন- এ ঘটনার পর থেকেই মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপনের নেতৃত্বে র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ থানা পুলিশের ৫টি টিম মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ তিন খুনের নেপথ্যের কারণ ও খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। তিনি আরও বলেন- ইতিমধ্যে অনেক তথ্য আমরা পেয়েছি। যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না।

উলেখ্য, গত শুক্রবার (৩১জুলাই) সকালে উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের একটি বসত ঘর থেকে হাত বাধা এবং ঝুলন্ত অবস্থায় অটো চালক আয়নাল তার স্ত্রী খুকু মনি ও তাদের একমাত্র কন্যা শিশু আশফিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

Sharing is caring!