মঠবাড়িয়ায় যুবলীগ সভাপতিকে হত্যা চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার-৯

প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এখন অশান্ত। উপদলীয় কোন্দলের জের ধরে দুই পক্ষ এখন মারমুখী। সকল ধরনের সহিংসতা এড়াতে পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবু হানিফ খানকে প্রতিপক্ষরা অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনার পর দুই গ্রুপ এখন মারমুখী। সোমবার সন্ধ্যায় শহরের ব্যাংক পাড়াস্থ যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

এঘটনায় উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল সোহেল বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রাজু ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মর্তুজা সহ ৬৭ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা কর্মীকে আসামী করে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ৯ নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দোকান পাট বন্ধ, বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা যুবলীগ।

 

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বরের সমর্থিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ও নৈশ প্রহরী ইদ্রিসকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৭ নেতা-কর্মীর নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তরিকুল ইসলাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে বিবাদমান দুই গ্রুপ সোমবার বিকেলে পাল্টা-পাল্টি প্রতিবাদ সমাবেশ করে। হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে সমাবেশে যোগ দিতে আসা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী রানা মালকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা।

 

এতে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সন্ধ্যার পর মঠবাড়িয়া পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহমেদ রচি, ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মর্তুজার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু হানিফ খানকে অপহরণ করে কালিদাসের বাগানে নিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা উপজেলা যুবলীগ অফিস ভাংচুর করে। পুলিশের সহায়তায় আবু হানিফকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঠবাড়িয়া পৌর শহরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঠবাড়িয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান সমর্থিত গ্রুপ এবং উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে কোন্দল রয়েছে। এ ঘটনার জেরে উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে।