মঠবাড়িয়ায় দুই কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

মিজানুর রহমান মিজু, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা ॥

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া দুই কলেজ ছাত্রীকে গ্যাং রেপের ঘটনার এজাহারনামীয় আসামি ধর্ষক আবু বকর সাগর (২০) কে অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার সকালে সড়ক পথে পালিয়ে যাওয়ার সময় পোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পার্শবতী ভান্ডারিয়া উপজেলার চড়খালী ফেরি ঘাট এলাকা থেকে ধর্ষক সাগরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সাগর উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের খোশালের বাড়ির জাহাঙ্গীর ওরফে কালোর ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত এ গণ ধর্ষণের শিকার এক কলেজছাত্রীর নানা বাদী হয়ে ৪ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ২/৩ জন আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করলে সাগরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। কিন্তু প্রধান আসামী মাদকসেবী রানাসহ ৬ জন এখনো পলাতক রয়েছে। এদিকে পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে শুক্রবার দুপুরে ভিকটিম দু’কলেজ ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি আ,জ,ম, মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত সাগর পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জড়িত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা গ্রামের ওই দুই কলেজ ছাত্রী বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য কলেজে কাগজপত্র জমা দেন। জমা শেষে দুপুরে প্রতিবেশী সহপাঠী সোহাগ খান (২০) ও শাহাদাৎ (২১) কে নিয়ে মঠবাড়িয়া হয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলার হরিনপালা ইকোপার্কে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। দুপুরের সময় তাদের বহনকারী ইজিবাইক মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী (মাঝেরপুল) নামক স্থানে নষ্ট হয়। এসময় স্থানীয় তিন চারজন যুবক তাদের জিম্মি করে।

এরপর আর্শেদ মিয়ার বাড়ীর সম্মুখে সরকারী পুকুর পাড়ে নিয়ে দুই ছাত্রীকে মারধর করে মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে নির্জনে নিয়ে তারা ওই মেয়ে দুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর ওই কলেজ ছাত্রীর অভিভাবকদের কাছে মোবাইলে ফোন দিয়ে ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।

Sharing is caring!