মঠবাড়িয়ায় ট্রিপল মার্ডার : ৬ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি দুই খুনি

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২১

মিজানুর রহমান মিজু, মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ॥ মঠবাড়িয়ায় গত-২০২০ সালের চাঞ্চল্যকর অটোচালক আয়নাল হক (৩৫), তার স্ত্রী খুকু মনি (২৫) ও তাদের ৩ বছরের একমাত্র শিশু কন্যা আশফিয়ার হত্যার প্রায় ৬মাস হলেও পলাতক দুই খুনিকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। ঘাতক ওলী ওরফে আলী ও তার অজ্ঞাত সহযোগী (নাম জানা যায়নি) গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলার বাদী ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাযায়, গত ৩০ জুলাই-২০২০ দিনগত গভীর রাতে উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের অটোচালক আয়নাল ও তার স্ত্রী কন্যাকে বসত ঘরে ঢুকে অটোচালক অলি বিশ^াসসহ চার সহযোগী মিলে আয়নালের টাকা ও স্বর্ণ লুটের জন্য এ একই পরিবারের ৩জনকে পরিকল্পিতভাবে নৃশংস ভাবে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণ লুট করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিহত আয়নালের শ্বশুর চিত্রা পাতাকাটা গ্রামের আবুল কালাম সর্দার হত্যা কা-ের পরের দিন অজ্ঞাত আসামী দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ হত্যা মামলা দায়েরের এক সপ্তাহেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ ওই সময় খুনের কোন ক্লু বের করতে পারেনি। হত্যার রহস্য উদঘাটনে যৌথ ভাবে মাঠে নামে থানা, ডিবি, পিবিআই, সিআইডিসহ পুলিশের পাঁচটি বিভাগ। অত:পর এ ট্রিপল মার্ডরের ৯ দিন পর বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে ও রহস্য উদঘাটন করে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খাঁনের নির্দেশে থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গত ০৮ আগষ্ট-২০২০ গভীর রাতে হত্যাকা-ে জড়িত মাষ্টার মাইন্ড কিলার অলি বিশ^াস (৩৮) কে সাফা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর পুলিশ প্রধান ঘাতক অলির দেয়া তথ্য মতে ও তার সহযোগী রাকিব (২০) কে ওই রাতে ধানীসাফা গ্রামের বসত বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত ঘাতক অলি উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের মৃত তুজাম্বর আলীর বিশ^াসের ছেলে ও রাকিব একই গ্রামের কাওসার বেপারীর ছেলে।

এদিকে এ হত্যায় সরাসরি জড়িত গ্রেফতারকৃত দুই খুনি পুলিশ ও আদালতের কাছে হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। দেয়ার পর জেলা মুখোশধারী অলি বিশ^াস, রাকিব, আলী ওরফে অলী ও তার এক সহযোগীসহ ৪জন ঘাতক দস্যুতার জন্যই সিঁদ কেটে আয়নালের বসত ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে আয়নাল ও স্ত্রীকে মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। এ সময় আয়নাল একই এলাকার দস্যু ও অটোচালক অলি ও আলীসহ তার সহযোগীদের চিনে ফেলে। এসময় অলিকে অনুনয় বিনয় করে বলে “অলি তুই মোরে মারিস না, টাহা পয়সা যা আছে লইয়া যা।” এতে দস্যুরা ক্ষুব্ধ হয়। এরপর ৪ ঘাতক মিলে আয়নাল ও তার স্ত্রী খুকুকে হাত বেধে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে বসত ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই ধানীসাফা গ্রামের রত্তন হাওলাদারের পুত্র অটোচালক আয়নাল স্থানীয় সাফা বন্দর কৃষি ব্যাংক থেকে ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে ঘাতক অলি দেখে ফেলে। এ ছাড়াও ঘাতক অলি জানতে পারে যে আয়নাল সম্প্রতি গরু বিক্রি করে টাকা ঘরে গচ্ছিত রেখেছে এবং স্ত্রী খুকু প্রতিবেশীর ঘরে রাখা কিছু স্বর্ণালংকারও ঘরে নিয়ে এসে গচ্ছিত রেখেছে। ওই টাকা ও স্বর্ণ লুট করার জন্য গত ৩০ জুলাই দিনগত গভীর রাতে ধানীসাফা-মঠবাড়িয়া সড়কের পাশে আয়নালের ভাড়াটিয়া বসত ঘরে ঘাতক অলি ও রাকিবসহ চারজন সিদ কেটে প্রবেশ করে এ লুট ও হত্যাকা- ঘটায়।

মামলার বাদী আবুল কালাম সর্দার জানান, তার মেয়ে ,জামাই ও একমাত্র নাতী হত্যাকারী দুই ঘাতক পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার করছি করছি বলেও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও গ্রেপ্তার করতে পারছেনা।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আ.জ,মাসুদ্দুজামামন মিলু জানান, পলাতক দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খাঁন আজকের বার্তাকে-বলেন, ট্রিপল মার্ডরের দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করতে থানা পুলিশ ও পিরোজপুরের ডিবি পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশাকরি খুব অল্প সময়ের মধ্যে পলাতক দু’ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।