মঠবাড়িয়ায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জাটকা শিকারে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তার (বিশেষ ভিজিএফ) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ১০ নং হলতা গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তার চাল সঠিকভাবে বিতরণ না করায় এ অভিযোগ ওঠে বলে জানা গেছে।

২৯ জুন সোমবার সকাল ১০টা থেকে পর্যায়ক্রমে গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়। জেলেদের প্রাপ্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল না দেওয়ার অভিযোগে জেলেরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার ১০ নং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নে ৬১০ জন জেলের জন্য ৩৪ টন ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক কার্ডধারীর মাথাপিছু ৫৬ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ক্যারিং খরচের কথা বিবেচনা করে জেলেরা চেয়ারম্যানের কথামত ৫০ কেজি করে নিতে সম্মত হর। কিন্তু ৫০ কেজির কম দেওয়া শুরু করলে জেলেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, ৫৬ কেজির জায়গায় আমাদের ৫০ কেজি দিলেও আমরা মেনে নিতাম। কিন্তু ৪৬/৪৭ কেজিতো মেনে নিতে পারি না। এসময় জেলেরা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে চাল বিতরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট আহবান জানান।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা স্বপন তালুকদার জানান, জেলেরা সত্য কথা বললেই গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। ইউপি সদস্যরাও জিম্মি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, ক্যারিং খরচ বিবেচনা করে ৫৬ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি করে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ৫০ কেজির কম দেওয়ায় জেলেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি একে আজাদ এবি জানান, চেয়ারম্যানের অবহেলার কারণেই ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারির কাছে ১০ কেজি চালের সিøপটা পর্যন্ত নিতে আসতে হয়। পরিষদের ১২ জন মেম্বার থাকতে বিএনপি নেতাকে দিয়ে দায়িত্ব পরিচালনার বিষয়টি আমাদের বুঝে আসে না। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো জানান, মঠবাড়িয়া খাদ্য গুদাম থেকে চাল আনতে ৪০ হাজার টাকা ক্যারিং খরচ হয়। এজন্য কিছু চাল কম দিয়ে ক্যারিং খরচ সমন্বয় করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, জেলেদের প্রাপ্য থেকে একমুঠো চাল কম দেওয়াও অনিয়ম। চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার পাঠানো হয়। তারপরও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারকে পাওয়া যায় নি।