মঠবাড়িয়ায় ট্রিপল হত্যার রহস্য উদঘাটন: পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

মো. শাহজাহান , মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর শিশুসহ দম্পতি হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন ও ২ আসামীকে গ্রেফতারের ঘটনায় পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান এক প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া থানার হলরুমে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানটি করেন।

প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, গত ইং ৩০ জুলাই ২০২০ তারিখ মঠবাড়িয়া থানাধীন ধানীসাফা ইউনিয়নের ধানীসাফা গ্রামে একটি লোকহর্ষক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। যেখানে শিশু সন্তানসহ পুরো একটি পরিবারের ৩ সদস্য, স্বামী মোঃ আয়নাল হক (৩৫), স্ত্রী খুকুমনি (৩০) ও শিশু কন্যা আসফিয়া (০৩) কে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে বসত ঘরের চালের আড়ার সংগে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। উক্ত হত্যার ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পর হতে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা পিরোজপুর যৌথভাবে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ইংরেজি ৮ আগষ্ট ২০২০ তারিখ রাত অনুমান ১ ঘটিকায় হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড কিলার মোঃ অলী বিশ্বাস (৩৮)পিতাঃ মৃত. তোজাম্বর আলী বিশ্বাস গ্রাম ধানীসাফা, মঠবাড়িয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত মোঃ রাকিব বেপারী (২০) পিতা কাওসার বেপারী, গ্রাম ধানীসাফা মঠবাড়িয়াকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী হত্যাকান্ডে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দস্যুতাসহ এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য অত্র মামলার ঘটনাস্থল এবং মাস্টারমাইন্ড কিলার মোঃ অলী বিশ্বাসের বসত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করে আসামী অলী বিশ্বাসের দেখানো মতে তার বসত বাড়ীর পুকুর হতে দস্যুতাসহ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ২টি স্টিলের পাইপ, ১টি রামদা এবং তার বসত ঘর হতে ১টি দেশীয় দা ও লুন্ঠিত কিছু নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামীদ্বয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, তারা মূলত দস্যুতা সংঘঠিত করার জন্য অটোচালক আয়নাল হকের বাড়ীতে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু আয়নাল হক আসামীদের চিনে ফেলায় আসামীরা নিজেদেরকে বাঁচাতে নির্মমভাবে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। প্রাথমিক তদন্তে দস্যুতাসহ এ হত্যাকান্ডে আরো ২ জন জড়িত আছে মর্মে জানা যায়। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করা হলো না। অতিদ্রুত পলাতক আসামীদের গ্রেফতারপূর্বক বিচারের আওতায় আনা হবে।

প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন, মঠবাড়িয়া থানার ওসি মাসুদুজ্জামান, তদন্ত ওসি আব্দুল হক, পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার সেকেন্ড অফিসার দেলোয়ার হোসেন,মঠবাড়িয়া থানার সেকেন্ড অফিসার জাহিদ হাসান, এস,আই, গোলাম মাওলানা প্রমুখ।