মঠবাড়িয়ায় এমপির পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা প্রকৌশলীকে অপসারণের দাবী

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বাস্তবায়নে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে করোনাকালীন সময়ে স্থানীয় এমপিকে জড়িয়ে মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবিাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন কতিপয় ঠিকাদার। ওই সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও প্রতিহিংসা পরায়ণ দাবী করে দুর্নীতিগ্রস্ত উপজেলা প্রকৌশলীর দ্রুত অপসারণের দাবী করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে ঠিকাদারদের পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো: লোকমান হোসেন খান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ জুন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মো: জসিম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ১২টি প্যাকেজের ৬০ লাখ টাকার কাজ ইচ্ছাকৃত ভাবে তার পছন্দের ৭/৮ জন ঠিকাদারকে ২২% থেকে ২৭% কমিশনে বিধি বহির্ভূত ভাবে পাইয়ে দেন। সাধারণ ঠিকাদারগণ এ অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে এমপি ও ইউএনওর কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ করলে উপজেলা প্রকৌশলী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দেন। কিন্তু পরবর্তী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ ঠিকাদারগণ অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এডিপির কাজ স্থগিতসহ টাকা উত্তোলন না করার নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ৩০ জুন এডিপির টাকা উত্তোলন করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু সংখ্যক চেয়ারম্যান মহাজোটের এমপি সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থানীয় কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীকে জড়িয়ে শহরে অকথ্য ভাষায় মিছিলসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। যা করোনাকালীন সময়ে সম্পূর্ণ বেআইনী ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক।

এছাড়াও ওই সংবাদ সম্মেলনে গত ৩০ জুন রাতে সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করা হয়েছে তারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। কেননা এমপি কখনও ইউএনও বা উপজেলা প্রকৌশলীকে হুমকি প্রদর্শন করেননি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, পিপিআর বিধি অনুযায়ী আরএফকিউ টেন্ডার পদ্ধতিতে সিডিউল বিক্রি বা দরপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে ৭১ (৩) ধারায় কোন প্রকার মূল্য গ্রহণ করা যাবে না ও ৭০ (৬) ধারায় ৫% জামানত গ্রহণ করা যাবে না যা সম্পূর্ণ বেআইনী। আরএফকিউ পদ্ধতিতে প্রতি সেটের ধার্য মূল্য ৪ হাজার ৮ শ টাকা লিখে রশিদ প্রদান করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫শ টাকা গ্রহণ করেন। এভাবে ১২০টি সিডিউল সেট বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। যে কারণে দুর্নীতির জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর অপসারণ দাবী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন হেলাল মুন্সী, নুরুজ্জামান তালুকদার, সাবেক কাউন্সিলর মো. হেমায়েত উদ্দিন, মো. জিল্লুর রহমান, কামরুল আকন, তৌহিদ মাসুম, কালাম মোল্লা ও বাবু শরীফ প্রমুখ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মো: জসিম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়মেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জড়িত থাকার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, এমপি ১১টি ইউনিয়নের এডিপির ৬০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে উপজেলার উন্নয়নকে ব্যাহত করতে ও উপজেলা পরিষদকে অকার্যকর করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে এডিপির ৬০ লাখ টাকা ফেরত যাওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ও ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রুপ ও এমপির সমর্থক ঠিকাদার দু’গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।