মঠবাড়িয়ায় এতিমখানাকে নিবন্ধিত করার দাবি

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

মো. শাহজাহান, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ॥

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৬ নং টিকিকাটা ইউনিয়নে ২০১৮ সালে সাঈফী নগর মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। মাদ্রাসার সাথে পরিচালিত হচ্ছে একটি এতিমখানাও। ১৫৪ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। আন্তর্জাতিক মানের হেফজ বিভাগ ও এর পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী ক্লাস ভিত্তিক পাঠদানের ব্যবস্থা থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু প্রায় ৩০ জন এতিম থাকলেও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব এতিম শিক্ষার্থীরা।

মাদ্রাসাটিতে প্রতি বছর মাহফিল হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপিসহ অনেক বিশিষ্ট গুণীজন ও আলেম ওলামাদের পদচারণা রয়েছে মাদ্রাসাটিতে।

‘আল্লাহ’র ভালবাসা ও বিশ্ব জয় যাদের স্বপ্ন- আমাদের প্রচেষ্টা তাদের জন্য’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাওলানা নেছার উদ্দিন সাঈফী মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল জলিল।

নেছার উদ্দিন সাঈফী ইতোপূর্বে ঢাকার মিরপুর- ১১ এলাকার একটি স্বনামধন্য মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। কিন্তু নিজের এলাকায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার অনুভূতি থেকেই যাত্রা শুরু হয় এ সাঈফী নগর মাদ্রাসাটির।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসার ছাত্ররা পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে অনুবাদ বলতে পারে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কৃতিত্ব রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমের অনুভূতিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের। জাতীয় সংগীত বাংলা ও ইংরেজিতে পরিবেশন করতে পারে তারা। প্রতি বছর ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা পর্যায়ে প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করার সুনাম রয়েছে এ মাদ্রাসাটির। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রয়েছে মুজিব কোট। যে কোন অনুষ্ঠানে এ কোট পরিধান করেই তারা অংশগ্রহণ করে।

শুভাকাঙ্খীদের দান – অনুদানে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হলেও প্রতিদিন দুপুরে – (মাছ/মাংস,ডাল) রাতে- (সবজি,ডাল) সকালে- (ভর্তা/ভাজি,ডাল) অর্থাৎ ৩ বেলাই মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বায়নের এই যুগে মাদ্রাসাটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার জন্য হামদ, নাত, বক্তৃতা, জাতীয় সংগীত, মেহমানদের রিসিপশন আরবী, বাংলা ও ইংরেজিতে শেখানো হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২৮টি বেসরকারি এতিমখানা রয়েছে। এর মধ্যে ‘বরাদ্দ আছে- এতিম নেই’ এমন এতিমখানাও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অডিট করলেই এ এতিমখানাটি নিবন্ধিত হবে বলে মনে করছেন অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান,”এতিমখানাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হতে পারবে- তবে এজন্য বিধি অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আসতে হবে।”

Sharing is caring!