মঠবাড়িয়ায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় টিকিকাটায় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিধ্বস্ত সড়ক সংস্কার না করায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার না করায় স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তিসহ প্রতি অমাবশ্যার জো-তে অতিরিক্ত ৩/৪ ফুট পানি হু হু করে লোকালয়ে ঢুকে বসত বাড়ি, রান্নার ঘর ডুবে যাওয়ায় বর্তমানে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ৬নং টিকিকাটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের টিকিকাটা সিনিয়র মাদ্রাসা সড়ক ও জনপথের সংযোগ সড়কটি (এলজিইডি) আম্পানের কবলে পড়ে। ওই রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ৫/৬ ফুট পানি বৃদ্ধিতে এ সড়কের ওই মাদ্রাসা হতে গুলিশাখালী ব্রিজ (সওজ সড়ক) পর্যন্ত ১কিঃমিঃ এলজিইডির কার্পেটিং রাস্তার তিনটি স্পটে ৩শ’ ফুট খাল ও ফসলি জমির মাঠের সাথে বিলীন হয়ে যায়।

রোববার সকালে সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, আম্পান পরবর্তী গত এক মাসে পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার জো এর প্রভাবে নদী ও খালের স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট পানি বৃদ্ধিতে জোয়ারের সময় প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের বসত ঘর পানিতে ডুবে যায়। এসময় চলাফেরা, রান্না বান্নাসহ গৃহস্থালীর কাজে দারুণ ভোগান্তি পোহাতে হয়। কৃষক আব্দুর রহমান (৫৫) জানান, গত অমাবশ্যার জো-তে মাঠে অতিরিক্ত পানি থাকায় আমন বীজ সঠিক সময়ে ক্ষেতে ফেলানো সম্ভব হয়নি। ফলে বিলম্বের কারণে তিনিসহ অন্যান্য কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী এজাজ চৌধুরি বলেন, প্রতি জো-তে অতিরিক্ত পানি হু হু করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে থাকে। এসময় অতিরিক্ত পানিতে ৬/৭ দিন রান্নাসহ গৃহস্থালীর কাজে দুর্ভোগ নেমে আসে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দার আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গা বিধ্বস্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঝড় পরবর্তী ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের আশ^াস দিলেও গত এক মাস অতিবাহিত হলেও সংস্কারের কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাইদ মোঃ জসিম বলেন, ঝড়ে বিধ্বস্ত সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ছবিসহ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অনুকূলে কোন অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় রাস্তাটি সংস্কার করা যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

Sharing is caring!