মঠবাড়িয়ায় অবৈধ ইট ভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১

মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফসলি জমি, ফলদ ও বনজ বাগান ও বাসা বাড়ি, চলাচলের রাস্তাসহ ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ ইট ভাটা (পাঁজা) ও পুইনে প্রকাশ্যে ইট পোড়ানো হচ্ছে। আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে যত্রতত্র কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর ফলে জমির উৎপাদন কমছে ও এলাকার বনজ সম্পদ উজাড় হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে। অন্যদিকে, পাঁজার কালো ধোঁয়ায় করোনা কালীন সময়ে সর্দি কাশিসহ শ্বাস কষ্টের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

 

জানাযায়- চলতি শুকনো মৌসুম শুরুতেই উপকূলীয় উপজেলা মঠবাড়িয়ার একটি পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসকের কোন লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ৪০/৪৫টি পাঁজা ও পুইন ইট পোড়া শুরু করে। অবৈধ ইট পাঁজায় ফসলি কৃষি জমির উপরি অংশ সরকারী খাল ও নদীর মাটি অবৈধ ভাবে খনন করে ইট তৈরীর কাজে ব্যবহার করছে। আম, জাম, কাঁঠাল রেইন্ট্রি, মেহগনি, চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ইট পোড়ার কাজে ব্যবহার করছে। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা পাঁজা বা পুইনের নেই কোন বৈধ কাগজ পত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলেও অসাধু মালিকরা প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে ইট পুড়লেও কর্তৃপক্ষ নীরব। সরকার এ অবৈধ পাঁজার বিরুদ্ধে কঠোর থাকলেও এলাকার প্রভাবশালী মহল আবাসিক বসত বাড়ি ও হাট-বাজার, রাস্তা উপর অবৈধ পাঁজা তৈরী করে ইট পোড়াচ্ছে। ফলে একদিকে কৃষি জমির উৎপাদন দিন দিন কমছে ও ফলদ, বনজ সম্পদ উজার হচ্ছে। অন্যদিকে, ইট পাঁজার কালো ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে ও এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

 

উজেলার ব্যস্ততম সড়ক মঠবাড়িয়া-বেতমোর বাজার হয়ে বলেশ^রের তীরবর্তী সাংরাইল বাজার পর্যন্ত ১৫ কিঃমিঃ সড়ক স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ সওকাতুল আলম বলেন, এ অবৈধ পাঁজায় আগুন দিলে পাঁজা সংলগ্ন প্রায় ৪০ একর জমির ইরি ধান, মুগ, সূর্যমুখী ক্ষেত হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয়রা জানান, পাঁজায় কাঠ দিয়ে আগুন দেয়ার সময় কালা ধোঁয়ায় শ^াস কষ্টসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া সহ সড়কে যান চলাচলে দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

প্রভাভশালী পাঁজা মালিক মোসলেম শরীফের সাথে কথা বললে তিনি জানান- তার পাঁজায় কোন ক্ষতি হয় না। তিনি তার জমিতে ইট কাটাচ্ছেন বলে এতে কারও ক্ষতি হওয়ার কথা না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকাশ কুমার কুন্ডু জানান, অবৈধ পাঁজার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊমি ভৌমিক জানান, পরিবেশের ক্ষতিকারক অবৈধ পাঁজার বিরুদ্ধে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।