ভ্যাক্সিন নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই- মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১

করোনা ভ্যাক্সিন কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা সভা
৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম
ভ্যাক্সিন প্রদানে নগরীতে থাকছে ৩টি কেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা সভা করেছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর সদর রোডস্থ বিবির পুকুরের পূর্ব পাশে এ্যানেক্স ভবনের সভা কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

এসময় তিনি বলেন, ‘আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। এ নিয়ে আতঙ্কের কোন কারণ নেই, বরং এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত খুশির বিষয়। করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে বিবিন্ন পোপাগন্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এটা থেকে নগরবাসীকে বিরত থাকতে হবে।

মেয়র বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন করোনার ভ্যাক্সিন আসলে সবার আগেই তা বাংলাদেশ পাবে। তিনি তার কথা রেখেছেন। প্রথম পর্যায় পাঁচশত চিকিৎসাক এবং নার্সদের এ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে। তাদের কোন সমস্যা হয়নি। তারা সকলেই সুস্থ আছেন। তাই করোনা থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে ভ্যাক্সিন গ্রহণ করতে হবে। এতে আপনি নিজে যেমন বাচবেন, তেমনি অন্যকেও করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা করবেন।

সিটি মেয়র বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১৫টি ক্যাটাগরিতে করোনার ভ্যাক্সিনের জন্য দশ হাজারের বেশি ব্যক্তির তালিকা ঢাকায় পাঠিয়েছি। যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীন নাগরিকসহ করোনার সম্মোখযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তালিকা অনুযায়ী আমরা এরি মধ্যে ভ্যাক্সিনও পেয়েছি। আগামী ৭ ডিসেম্বর বরিশাল জেলা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একই সাথে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পৃথকভাবে তিনটি কেন্দ্রে আমরা ভ্যাক্সিন প্রদান করবো।

কেন্দ্রগুলোর হলো বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতাল এবং পুলিশ হাসপাতাল। এখানে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন রেজিস্ট্রেশনকারী এক থেকে দেড়শত জনকে ভ্যাক্সিন দেয়া হবে। এজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ছয়জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। যাদের মধ্যে দু’জন দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। যারা দু’জনই সিনিয়র স্টাফ নার্স। তাদের ভ্যাক্সিনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, ‘সাত ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ওইদিন সকাল ১০টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। ওইসময় বরিশালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক পিজুস কান্তি দাশ এবং মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যক্সিন গ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাক্সিন গ্রহণ করে বাংলাদেশে এখন কারোর কোন ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভ্যাক্সিন নিলে সামান্য জ¦র এবং শরীর ব্যথা হলেও হতে পারে। অবশ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার পরেও আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে মেডিকেল টিম রেডি রেখেছি। ভ্যাক্সিন গ্রহণের পরে কোন পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষনিকভাবে তার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবেন।

মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে ভ্যাক্সিন প্রদানের জন্য এরি মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে টিম করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ নাগরীকদের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে কাউন্সিলর কার্যালয়ে হেলপ ডেক্স এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিজন নাগরীক তার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তির জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। যার রেজিস্ট্রেশন আগে হবে তাকেই তার পছন্দের কেন্দ্রে আগেভাগে ভ্যাক্সিন প্রদান করা হবে।

তবে ৫৫ বছরের নীচে কোন নাগরিক, গর্ভবতি নারী, শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং যেসব মায়ের সন্তান বুকের দুধ পান করেন তারা ভ্যাক্সিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। অসুস্থসহ ওইসব মায়েরা ভ্যাক্সিন গ্রহণের যোগ্য হলে পরবর্তীতে তাদের ভ্যাক্সিন প্রদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাই ভ্যাক্সিন নিয়ে কোন প্রকার আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যক্সিন গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, বিসিসি’র প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান, সহ-সভাপতি পুলক চ্যাটার্জি, সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ^াস প্রমুখ।