ভোলা সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স দুর্নীতি চরমে!

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১

মো. বিল্লাল হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলা সদর হাসপাতালের সরকারি এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল ড্রাইভারদের ব্যবসায় পরিণত হয়ে দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করছে। সেবাপ্রত্যাশী রোগীদেরকে বাধ্য করে আদায় করা হচ্ছে দশগুণ বা তারও অধিক ভাড়া। এ্যাম্বুলেন্স সেবা ড্রাইভারদের ব্যবসায় পরিণত হলেও অভিযোগ শুনছেনা বা ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কেউ। হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের মধ্যে ড্রাইভার হানিফের এ্যাম্বুলেন্স দুর্নীতি চরমে। তার সীমাহীন দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষ হাঁফিয়ে উঠেছে। ড্রাইভারী চাকরির অন্তরালে পুরো হাসপাতালটিকে একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছেন ড্রাইভার হানিফ।

সূত্রমতে, সরকারি মূল্যবান এ্যাম্বুলেন্স বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবহার না করে নিজের প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালাচ্ছেন ড্রাইভার হানিফ। হাসপাতাল এলাকায় অনুসন্ধানকালে স্থানীয় শ্রেণিপেশার মানুষ ড্রাইভার হানিফে বিরুদ্ধে অনিয়ম আর দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, ভোলা সদর হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে এপর্যন্ত যতগুলো এ্যাম্বুলেন্স সরকার বরাদ্দ দিয়েছে তার সবগুলোই হানিফ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিনষ্ট করে ফেলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজের ব্যক্তিগত এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে হানিফ সরকারি এ্যাম্বুলেন্স নষ্ট করে ফেলেন। ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, কোন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালের সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের জন্য হানিফকে ফোন করলে তিনি সরকারি সেবা না দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত এ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে মোটাদাগের ভাড়া আদায় করেন। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ড্রাইভার হানিফকে অন্য জেলায় বদলি করা হলেও প্রভার খাটিয়ে তিনি পুনরায় ভোলা সদর হাসপাতালে চলে আসেন। সদর হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, তারা কেউ অসুস্থ হলেও ড্রাইভার হানিফের কাছ থেকে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা জোটেনা।

তথ্যমতে, সরকারি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ রেখে ড্রাইভার হানিফ নিজের ব্যক্তিগত এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা চালিয়ে গত ২৫ বছরে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন। ভোলার পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হানিফ ক্রয় করেছেন বহু মূল্যবান জমি। যার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী।

ভুক্তভোগী বহু মানুষ অভিযোগ করেন, কেউ সরকারি এ্যাম্বুলেন্স চাইলে তা অকেজো কিংবা গ্যারেজে সারানো হচ্ছে এমন অজুহাত দেখিয়ে নিজের ব্যক্তিগত এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী পরিবহনের জমজমাট ব্যবসা চালাচ্ছেন বছরের পর বছর। আবার কখনো এ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও রোগী পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তিনগুণ টাকা দিতে হয় হানিফকে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে হাসপাতাল এলাকার লোকজন জানান, ড্রাইভার হানিফ দীর্ঘ ২৪/২৫ বছর ধরে পাহাড়সম অপকর্ম করে ভোলায় এ্যাম্বুলেন্সের বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তার নেতৃত্বে পুরো ভোলায় অবৈধ এ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে সেবার নামে প্রতারণার খড়গে আটকে ফেলেছে।

হানিফের দুর্নীতির বিষয়ে বহু ভুক্তভোগী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রকার প্রতিকার পাননি। সদর হাসপাতালের মূল্যবান এ্যাম্বুলেন্স হানিফের কব্জায় পড়লে সেটির আর রক্ষা হয়না। নিজের এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা সচল রাখতে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সগুলোর সমস্ত যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেয়ার মত অভিযোগ হানিফের বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ সিরাজউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ড্রাইভার হানিফের সাথে তার অপকর্ম নিয়ে কথা হলে, তিনি সব কিছুই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবী করেন।

ভোলার সিভিল সার্জন রেজাউল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত ড্রাইভারকে একাধিকবার সতর্ক করলেও এখনো নিজেদেরকে সংশোধন করছেন না। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি।