ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল সমাধানের তাগিদ দিলেন বরিশালের জনপ্রতিনিধিরা

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥ গত কয়েকমাস যাবত বরিশাল জেলাজুড়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের বাড়িতে পাঠানোর অভিযোগ এসেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বিরুদ্ধে। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে বিলম্বিত বিদ্যুৎ বিলের জন্য জরিমানা মওকুফ করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানে নি এই প্রতিষ্ঠানটি এমনটাও শোনা গেছে। এমনকি অনেকে জানিয়েছেন তারা কয়েকমাস যাবত বাড়িতে না থাকলেও বিগত মাসগুলোর চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিল আসার মতো ভুতুড়ে ঘটনাও ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার না করলেও ওজোপাডিকো কর্তৃপ জানিয়েছে তাদের কাছে যারাই অভিযোগ নিয়ে গেছেন তাদেরকে সহায়তা করা হয়েছে। কিন্তু কতজন মানুষ অভিযোগ দায়ের করে সমাধান পেয়েছেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেন নি কেউ। এমতাবস্থায় গত কদিন যাবত বরিশালের সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক সমাজ থেকে ক্ষুব্ধ বার্তা এসেছে ওজোপাডিকোর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই সমস্যার আশু সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

বরিশাল ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার জানান, গত এপ্রিল-মে মাসজুড়ে করোনা পরিস্থিতি খারাপ থাকায় তাদের লোকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং (পরীক্ষা) করে বিল করতে পারেন নি। এ কারণে কিছু ভুল হতে পারে। কিন্তু যারাই বিলের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন তাদের বিষয়ে সমাধানমূলক পদপে নেয়া হয়েছে। এই কর্মকর্তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন। এই কর্মকর্তা জরিমানার বিষয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিলম্বিত বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফে একটি ঘোষণা নির্দেশনা আকারে আমাদের কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। যে কারণে কিছু বিলম্বিত বিলে জরিমানার টাকা যোগ করে পাঠানো হয়েছে। এই বিলগুলোর কাগজসহ গ্রাহকেরা অভিযোগ দায়ের করলে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও জরিমানার ব্যাপারে স্থানীয় ওজোপাডিকোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় সংসদের সংরতি আসনের সাংসদ ও বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্তান রুবিনা আক্তার মীরা কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত কয়েকমাস যাবত বরিশালে ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের নানা অভিযোগ আমার কাছে এসেছিলো। বেশিরভাগ মানুষ জানিয়েছেন, সরকারের প থেকে বিগত মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা আদায় করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হলেও ওজোপাডিকো অনেককে জরিমানাসহ বিল পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পত্রিকা আজকের বার্তায় দুটি সংবাদও দেখেছি। পরবর্তীতে শনিবার (আজ) বরিশাল ওজোপাডিকোর দুটি বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন এই ধরনের সমস্যা দ্রুত সমাধান করে দেয়া হবে।

বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, মিটার রিডিং না করে ভুতুড়ে অতিরিক্ত বিল করার প্রবণতার খবর তিনি অনেকের মুখেই শুনেছেন। বর্তমান করোনাকালীন সংকট মুহূর্তে ওজোপাডিকোর এই প্রবণতা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। এছাড়া সরকারি নির্দেশনা না মেনে গ্রাহকদের জরিমানা করাটাও তাদের উচিত হয় নি। তিনি দ্রুত এই ব্যাপারে সমাধানমূলক পদপেক্ষ আশা করে বলেন, আমার আহবান থাকবে ভবিষ্যতে ওজোপাডিকো তাদের প্রত্যেক রিডার ম্যানকে (মাঠ কর্মী) বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার দেখে বিল করতে বলবে এবং যে ভুল হয়েছে সেটা দ্রুত সমাধানে করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)’র মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যে সকল নগরবাসীর সমস্যা হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছেন। তিনি গত শুক্রবার রাতে তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি মেসেঞ্জার লিংক শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন এই লিংকে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ দায়ের করলে সেগুলো সমাধান করবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।

Sharing is caring!