ভিপি নুরের ‘রাজনৈতিক ট্রাম্পকার্ড’ ঢাকা-১৮ উপ-নির্বাচন!

প্রকাশিত: ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

বশির হোসেন খান, ঢাকা ॥

ঢাকা-১৮ আসনে উপ-নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে, এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এমনকি আওয়ামী লীগ বা অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও মনোনয়ন পাওয়ায় পুতুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। কিন্তু কারো কাছেই নিশ্চিত খবর নেই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যার উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার গুঞ্জনের পর পরই ঘোষণা এসেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরও ভোটে দাঁড়াবেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরের রাজনৈতিক সহকর্মীরা আওয়াজ তুলছিলেন। এক পর্যায়ে নুরও এ নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সামনে।

তিনি বলেন, ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সবাই চাচ্ছেন আমি যেন ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হই। দেশে একটা অগণতান্ত্রিক পরিবেশ চলছে। ভোট থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সাধারণ মানুষকে আবার ভোটমুখি করতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আলোচনা হচ্ছে। আমি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে আমার সহযোদ্ধারা সবাই যদি চান আমি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারি- বলেন ভিপি নুরুল হক নুর। নিজে নতুন দল করার ঘোষণা দিলেও কোনো নিবন্ধিত দল নেই, সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নাকি অন্য কোনো দলের প্রার্থী হবেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়েই আমরা এগোচ্ছি। এছাড়া এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে আমাদের এ রাজনৈতিক দল মূখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।

সামাজিক যোগাযোগ নুরের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজ পোস্টে বলা হয়েছে, ঢাকা-১৮ সংসদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হতে পারে ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। এই স্ট্যাটাস দ্বারা অনুমান করা যাচ্ছে যদি প্রধানমন্ত্রী কন্যা উপ-নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে ভিপি নুরও নির্বাচন করবেন। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নেয়ার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কন্যার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভিপি নুর।

এ প্রসঙ্গে অনেক রাজনীতিকের ধারণা, ভিপি নুর নির্বাচনে জয়ী হয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে হারাতে তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালাবেন। কেননা প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে হারিয়ে দিতে পারলে সেটি প্রধানমন্ত্রীরই পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে। আর ভিপি নুর নতুন যে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, সকলের কাছে সেটির গ্রহণযোগ্যতা এবং নিজ সমর্থকদের তার প্রতি আস্থাকে পাকাপোক্ত করার ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন এই উপ-নির্বাচনকে।

তবে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ভাষ্য হচ্ছে- এতো শিগগিরই সন্তানদের রাজনীতিতে যুক্ত করছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, এই ধরনের সিধান্ত এখনো হয়নি। হলে আমি জানতাম। প্রধানমন্ত্রী এখনি তার সন্তানদের রাজনীতিতে আনতে চায় না। আর যদি তার সন্তানদের ওই আসনে প্রার্থী করেন। তাহলে জামানত হারাবে ভিপি নুর।
আওয়ামী লীগ উন্নয়নের রাজনীতি করে। আর দেশের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিবে। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হবে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ। তিনি জ্বর ও অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ জুলাই রাতে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলে আসনটি শূন্য হয়।

Sharing is caring!