ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি-ব্যাংক কর্মকর্তার পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের টাকা হাতানোর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

মোঃ মামুন হোসেন, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি ॥ মুজিব বর্ষকে ঘিরে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়ীয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা-এমন অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় বুধবার ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন এক ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা। জানা যায়, একটি প্রতারক চক্র উপজেলার ভিটাবাড়ীয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য প্রফুল্য মিশ্র কে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মুঠোফোনে কল দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাত দিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চায়। এসময় তিনি তার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা শ্যাম সুন্দর মিশ্র এর নাম তালিকায় দিয়ে তার মুঠোফোন নম্বর দেন ওই ভুয়া অফিসারকে। একই ইউনিয়নের অপর ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের কাছেও ওই চক্রটি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও মুঠোফোন নম্বর চাইলে তিনি কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধার ফোন নম্বর দেন।

 

চক্রটি ওই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ফোন (০১৮১৭৩৯৮৭৬৩) করে বলে, “আমি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছি, মুজিব বর্ষে সরকার প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের আড়াই লক্ষ করে টাকা দিবে তাই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই তালিকায় আপনার নাম রাখা হবে তবে আপনারা প্রত্যেকে ৩৭ হাজার ২ শত টাকা এখনই ‘নগদের’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে পাঠিয়ে দিন এবং পরবর্তী দিন আমার অফিস দিয়ে চেক নিয়ে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করবেন।”

 

সেইমতে, মুক্তিযোদ্ধা শ্যাম সুন্দর মিশ্র ওই চক্রের দেয়া নম্বরে (০১৮৮৮২৬৭৫৬৬) নগদের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা, মুক্তিযোদ্ধা কাদের মুন্সী ও রমেন দত্ত মিলে ১১ হাজার ৮ শত টাকা, মুক্তিযোদ্ধা হাবিব দফাদার ১৫ হাজার টাকা পাঠান। বাকী টাকা রবিবার জমা দেয়ার কথা হয় প্রতারক চক্রের সাথে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা শ্যাম সুন্দর মিশ্র বলেন, আমি বিশ্বাস করে ১২ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। স্থানীয় কাপালিহাট বাজারে বিকাশ এজেন্টে ক্যাশ আউট করার মত পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাকী টাকা পাঠানোর জন্য রবিবার ভাণ্ডারিয়া শহরে গিয়ে জানতে পারি আসাদের নির্বাহী অফিসার ও সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারের নামে ভুয়া পরিচয় দিয়েছে ওই চক্রটি ও এসব গুজব ছাড়া কিছুই না। পরে টাকা না পাঠিয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় গিয়ে বুধবার রাতে ওই প্রতারকদের মুঠো ফোন নম্বরের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরী করে আইনী সহায়তা চাই।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ও প্রফুল্য মিশ্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতারক চক্রের বিচার দাবী করেন। প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত ওই দুটি ফোন নম্বরে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, প্রতারক চক্রটিকে শনাক্তের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।