বয়সের ভারে ন্যূব্জ বরিশালের যুবলীগ, নতুন কমিটি চান ছাত্রনেতারা

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

শফিক মুন্সি :: বরিশালে যুবলীগের কমিটি গঠনের সময় যাদের জন্ম হয়েছিল তারাও এখন যুবলীগ করার বয়সে পৌঁছে গেছেন। অথচ পূর্বের সেই কমিটি এখনো নেতৃত্বে আছেন। এমন দাবি দীর্ঘদিন যাবৎ বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবলীগের নতুন কমিটির পদ প্রত্যাশীদের। স্থানীয় আওয়ামীলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ সংগঠন নতুন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে অনেকটা সময় জুড়ে। বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন তারা মূল দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা। তারাও চান নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হোক সংগঠনটিতে।
দলীয় সূত্র বলছে, জেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছে ১৯৯২ সালে। তিন বছর মেয়াদী কমিটি চলছে আজ প্রায় ২৯ বছর। অন্যদিকে মহানগর যুবলীগের তিনমাস মেয়াদী আহবায়ক কমিটি গঠিত হয় ২০০৪ সালে। ১৭ বছর হতে চললেও নতুন নেতৃত্ব পায়নি সংগঠনটি। যার ফলে এক ধরনের নেতৃত্ব সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যুবলীগের স্থানীয় এই দুই ইউনিটে।

এদিকে, জেলা ও মহানগর যুবলীগের পদধারী প্রায় সকল নেতৃবৃন্দ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদে আসীন রয়েছেন। ফলত এক প্রকার কার্যক্রমহীন দিন পার করছে বর্তমান যুবলীগ, এমন দাবি অনেকের। বিশেষ করে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে চায়। তাদের প্রত্যাশা বরিশাল আওয়ামীলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন যুবলীগে দ্রুতই দূর হবে নেতৃত্ব সংকট।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিক বিন ইসলাম জানান, ২৯ বছর যাবৎ জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি বহাল আছে। কয়েক বছর যাবৎ হচ্ছে হচ্ছে করেও নতুন কমিটি হচ্ছে না। বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ জিন্নাহ বলেন, ‘মহানগর যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছে ২০০৪ সালে। যারা নেতৃত্বে আছেন তারা সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। যে কারণে মহানগর যুবলীগ এক প্রকার নিষ্ক্রিয় এবং নেতৃত্ব শূন্য।

তবে যুবলীগের দায়িত্বে থাকা বর্তমান নেতৃবৃন্দও দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চান। মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও চাই নতুন নেতৃত্ব যুবলীগকে এগিয়ে নিয়ে যাক। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে সম্মেলন আয়োজন করা হবে’।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা বলেন, ‘সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গুলো পুনঃগঠনের কাজ চলছে। বরিশালেও খুব দ্রুত নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হবে।

অবশ্য আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বরিশালে আওয়ামী লীগের প্রায় সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একই অবস্থা। এজন্য স্থানীয় রাজনৈতিক অভিভাবকদের স্বদিচ্ছা না থাকাকেই দায়ী করছেন তারা। তাদের মতে নীতি নির্ধারকরা চান না বলেই আজ নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। তবে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে যুবলীগসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেয়ার দাবি তুলেছেন সাবেক ও বর্তমান নেতারা।