বেড়েছে কীর্তনখোলার পানি : ফের জলাবদ্ধ নগরী

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

এম. বাপ্পি ॥ ফের জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বরিশাল নগরী। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে ৩য় বারের মত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নগরীর নিম্নাঞ্চল। টানা বৃষ্টি আর কীর্তনখোলার জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে নগরীর রাস্তাঘাট। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এমন পরিস্থিতি আরও ২/১ দিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সপ্তাহজুড়ে ভ্যাপসা গরমের পর এই বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে নাগরিক জীবনে।
এদিকে বারবার জলাবদ্ধতার কবলে পড়া ভুক্তভোগীদের মাঝে বিরাজ করছে অসন্তোষ। যদিও বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণে ইতিমধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করেছে বিসিসি। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে ইতিমধ্যে শোকজও করা হয়েছে। তবে নির্বিচারে নগরীর খাল-জলাশয় ভরাট করায় সহসাই এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলছে না- এমনটাই ধারণা সচেতন মহলের।
এদিকে কীর্তনখোলার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ১৫ সেন্টিমিটার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কীর্তনখোলার পানির প্রবাহ ছিল ২.৭০ মিটারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এই উচ্চতা ২.৫৫ মিটারে থাকে বলে জানিয়েছেন কীর্তনখোলার গেজ রিডার আবু রহমান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর স্টেডিয়াম কলোনি, কেডিসি, নামারচর, ভাটারখাল, পোর্টরোড, পলাশপুর, রসুলপুরের পাড়া-মহল্লা নদীতে জোয়ার আসার সাথেসাথেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। টানা বৃষ্টি এবং জোয়ারে জলমগ্ন হয়ে পড়ে সাগরদী, রুপাতলী হাউজিং, আলেকান্দা, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, কালুশাহ সড়ক, কাউনিয়া, ভাটিখানার অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলও। যদিও ভাটার টানে আবার পানি নেমে যাচ্ছে দ্রুতই। তবে ঘণ্টা দুয়েকের স্থায়ীত্বকালের এমন পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর জনজীবন।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার জানান, সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ৫৯ মিলিমিটার। গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে বৃষ্টিপাত আরও ২ থেকে ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিসের এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!