বেওয়ারিশ পশু-পাখির সেবক বরিশালের অ্যানিমেল কেয়ার টিম

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

জুনাইদ খন্দকার ::

“জীবে দয়া করে যে জন সে জন সেবিছে ঈশ্বর”। তেমনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বরিশাল অ্যানিমেল কেয়ার টিম (অ্যাক্ট)। যে সংগঠনটির সদস্যরা নিজ অর্থায়নে বেওয়ারিশ পশু-পাখির সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। ৫৮ বর্গ কিলোমিটার বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে পশু-পাখির অসুস্থতার খবর পেলেই তাঁরা ছুটে যাচ্ছেন।

নিজ উদ্যোগ এবং নিজ অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলছেন অসুস্থ পশু-পাখিকে। এ ক্ষেত্রে পশু পাখির ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার (সেলাই কাজ) থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন তারা। আর এ ক্ষেত্রে পরামর্শ নিয়ে থাকেন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের।

 

 

অলাভজনক এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অধীনে বেওয়ারিশ পশু-পাখির সেবায় বর্তমানে নিয়োজিত আছেন ১০ জন ফিল্ড ভলান্টিয়ার। মূলত তারাই নিজ অর্থায়নে ওইসব জীবের সেবা দিয়ে যাকে। তবে শুধুমাত্র বেওয়ারিশ নয়, চাইলে মালিকানা প্রাণীর সেবাও দিয়ে থাকেন অ্যাক্ট’র স্বেচ্ছাসেবীরা।

এ নিয়ে কথা হয় অ্যাক্ট’র প্রধান স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ মুরসালিন রিমেল এর সাথে। তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে একটি প্রাণীর জীবন বাঁচানো আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করি। তা হলো প্রাণীর প্রাথমিক সহায়তা, প্রাণীর দত্তক গ্রহণ ও বিপদগ্রস্ত প্রাণী উদ্ধার করা। এ কাজের জন্য আমাদের বর্তমানে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। এরা সবাই বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী। এই টিম মূলত মালিকবিহীন প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে থাকে।

সৈয়দ মুরসালিন রিমেল বলেন, ‘মালিকবিহীন একটি অসুস্থ কুকুরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা পর্যন্ত আমাদের হেফাজতে রেখে লালন-পালন করি। তারপর দত্তকের ব্যবস্থা করে আমাদের কাজ শেষ। তবে যদি মালিকানা প্রাণীর জন্য কেউ আমাদের সাহায্য চান তবে আমরা তাদেরও সাহায্য করে থাকি। এ ক্ষেত্রে মালিকানা প্রাণীর জন্য শুধু ওষুধের মূল্য মালিককে বহন করতে হয়।

টিম লিডার আরও জানান, ‘আমি বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের কমিউনিটি ভলান্টিয়ার এবং সাবেক বি.এন.সি.সি ক্যাডেট সার্জেন্ট (সেনা শাখা) হিসেবেও কাজ করেছি। সেখান থেকে স্নেক বাইটের ট্রেনিং নিয়েছি। মাঝে মধ্যে প্রাণীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেও আক্রান্ত হয়েছি। সাপের কামড় খেয়েও সেবা করে গেছি। আমরা এখন পর্যন্ত বিড়াল, কুকুর, গরু, ছাগল, বানর, সাপ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর সেবা করেছি।

 

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা অধিকাংশই পেশায় ছাত্র। এই কার্যক্রম চালানোর জন্য বিপুল পরিমাণ মেডিসিন এবং টাকার প্রয়োজন হয়। যার পুরোটাই স্বেচ্ছাসেবকরা বহন করে থাকেন। তবে কেউ প্রাণীদের সাহায্য করতে চাইলে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাবো। কেননা কারোর দেয়া একশ টাকায় হয়তো বেঁচে যেতে পারে একটি প্রাণীর জীবন।

 

 

এ বিষয়ে কথা হয় বরিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ইব্রাহীম খলীলের সাথে। তিনি বলেন, ‘অ্যানিমেল কেয়ার টিম যে কাজ করছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমিও একজন প্রাণী প্রেমিক। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সাথে একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘অ্যানিমেল কেয়ার টিম আমার কাছে বিভিন্ন সময় প্রাণী বিষয়ক সাহায্য চেয়ে থাকে, আমি তাদের যথা সম্ভব সহযোগিতা করছি। তাদের সংগঠনের কারণে হয়তো একটি প্রাণীর জীবন বেঁচে যাচ্ছে। তাই শুধুমাত্র ওই সংগঠনই নয়, আমার কাছে পশু পাখির ব্যাপারে সাহায্য চাইলে আমি তাদের সাহায্য করবো। এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব।

Sharing is caring!