বিসিসি’র দুই পরিচ্ছন্নতা কর্মীর উপর হামলা : রাতভর উত্তেজনা

প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ময়লা পরিষ্কার কারতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দুই পরিচ্ছন্নতা কর্মী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর বটতলা ও আমিরকুটির এলাকায় পৃথক এই ঘটনা দুটি ঘটে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এলাকা জুড়ে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পাশাপাশি হামলায় আহতদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মী জালু আমিরকুটির এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মজনুর বাসায় আবর্জনা আনতে যান। এসময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী জালুকে মারধর করেন মজনুর বড় ছেলে রেদওয়ান কাওছার। এতে ঘটনাস্থলেই পরিচ্ছন্নতা কর্মী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মজনু’র বাড়ি ঘেরাও করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে রাত ৯টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন লাবলু ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী জালু’র চিকিৎসা বাবদ ত্রিশ হাজার টাকা মজনুর কাছ থেকে আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা: মো: রবিউল ইসলাম বলেন, নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের আমিরকুটির এলাকায় জালু নামে আমাদের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে জালুকে। বিষয়টি মেয়রসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই কোতয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুমন ও কাওসারসহ তিনজন নগরীর ১৫নং ওয়ার্ড আলমগীর ছাত্রাবাসের সামনে থেকে আবর্জনা আনতে যান। এসময় সেখানকার ড্রেনে ময়লা ফেলছিলেন স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা ও ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন নয়ন।
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় নয়নকে নিষেধ করেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুমন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা নয়ন এলোপাতাড়ি মারধর করেন সুমনকে।

পরবর্তীতে সুমন তার সহযোগী কাওসারসহ তিনজন পরিচ্ছন্নকর্মী নয়নের দোকানের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে দ্বিতীয় দফায় নয়ন ও তার দলীয় লোকজন তাদেরকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে সুমন ও কাওসার গুরুতর আহত হন।

এদিকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের পিটিয়ে আহত করার খবর পেয়ে বিসিসির অন্যান্য পরিচ্ছন্নকর্মী এবং কর্মচারীরা নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন লাবলু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে বিসিসির ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত ইসলাম লাবলু বলেন, বিষয়টি শোনামাত্র তিনি ঘটনাস্থল থেকে আহত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্ধার করে চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন। বিক্ষুব্ধ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও শান্ত করেন তিনি।

বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নুরুল ইসলাম পিপিএম জানান, দুটি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পরিচ্ছন্নকর্মীদের মারধরের ঘটনায় বিবিসির পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Sharing is caring!