দখল-দূষণে পর্যুদস্ত নগরীর শোভা রানীর খাল

প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

এম. বাপ্পি ::

ব্যাপকহারে দখল-দূষণের কবলে পড়েছে নগরীর ঐতিহ্যবাহী শোভা রানীর খাল (চাঁদমারী)। প্রতিনিয়ত দখলের কারণে খালটির আকার সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অবাধ পানি প্রবাহ। অন্যদিকে খাল ঘেঁষে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড়ের কারণে দূষিত হচ্ছে পানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এখনই এসব কার্যক্রম প্রতিহত না করলে অচিরেই খালটি তার অস্তিত্ব হারাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কীর্তনখোলার সাথে সংযুক্ত এ খালটি নগরীর ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডের প্রাণ। এই ২ ওয়ার্ডের পানি এবং বর্জ্য নিষ্কাশনে খালটির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দখল ও দূষণের কবলে পড়ে শোভা রানীর খাল ক্রমশ কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। খালের মূল উৎস কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন চাঁদমারী এলাকা থেকে দখল শুরু হয়ে ডিসির বাংলোর কাছাকাছি এসে থেমেছে। চাঁদমারীর প্রভাবশালী দখলদাররা প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণসহ নানা কৌশলে খালটি ভরাট করছেন।

এক প্রান্তের জমি নিজস্ব মালিকানার কারণে খাল দখলে তারা অনেকটাই বেপরোয়া। প্রশাসনের নজরদারির অভাবের সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন তারা। সেখানের বেশ কয়েকটি স’-মিল, বসত বাড়িসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের দ্বারা ভরাটের কারণে ইতিমধ্যেই খালটি তার নাব্যতা হারিয়েছে। কমে গেছে প্রশস্ততা।

একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানিয়েছেন, কিছুদিন পূর্বেও খালটি দিয়ে বড় আকারের নৌকা (ঘাসি নৌকা) চলাচল করত। বর্তমানে প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় নৌকাগুলো আর খালের মধ্যে ঢুকতে পারছে না, চাঁদমারীর খেয়াঘাটের কাছাকাছি মালামাল খালাসে বাধ্য হচ্ছে। একসময় জনসাধারণ গোসলসহ বিভিন্ন কাজে খালটির পানি ব্যবহার করত। কিন্তু দূষণে বেহাল দশার কারণে মানুষ খালটি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। শোভা রানীর খাল অচিরেই বিলীন হবার পথে- এমন আশংকা তাদের।

অপরদিকে ব্যাপ্টিস্ট মিশন গির্জা সংলগ্ন খালের প্রান্ত ঘেঁষে অস্থায়ী আবর্জনার ভাগাড় গড়ে তুলেছে বিসিসি। প্রতিদিন এখানে টনটন আবর্জনা ফেলা হয়। বেশ কয়েকবছর ধরে এভাবে আবর্জনা ফেলায় সেগুলো জমে গিয়ে খালটিকে একেবারেই সংকীর্ণ করে ফেলেছে।

এ প্রসংগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ‘ওয়াটার ও হাইজিন’ বিষয়ক গবেষক ডাঃ রাজ্জাক বলেন, নগরীর খালগুলো নগরীর প্রাণ। বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিসহ বর্জ্য নিষ্কাশনে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই খালগুলো রক্ষণা-বেক্ষণ একান্ত দরকার। তিনি বলেন, কেবল প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না, খাল রক্ষায় জনসচেতনতাও প্রয়োজন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আবর্জনার ভাগাড় স্থানান্তরপূর্বক শোভা রানীর খাল রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান এই গবেষক।

জানতে চাইলে ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমান বলেন, খালটি দক্ষিণ আলেকান্দার বর্জ্য নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম। এর দখল-দূষণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি দেখবেন -এমন আশ্বাস দিয়ে কাউন্সিলর মজিবর রহমান বলেন, শুধুমাত্র তার ওয়ার্ডের খালটিই নয়, নগরীর অন্যান্য খালগুলো সংস্কার এবং পুন:খননের পরিকল্পনা তারা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছেন। এ জন্য জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে। এডিবির অর্থ বরাদ্দ পেলেই বিসিসি এ বিষয়ে কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!