বিবাহিত এবং অছাত্রদের দাপটে পিছিয়ে গেলো ছাত্রদলের ৪০ ইউনিট কমিটি : ১৯টি চূড়ান্ত

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

খান রুবেল ॥

পিছিয়ে গেলো বরিশাল জেলা ছাত্রদলের অধীনস্ত ৪০টি ইউনিটের কমিটি। এরই মধ্যে ১৯টি ইউনিট কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বাকি পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিতর্কের কারণে পিছিয়েছে অন্য ইউনিট কমিটির কার্যক্রম। তাই বিতর্ক কাটিয়ে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে সকল ইউনিট কমিটি চূড়ান্তÍ করতে বরিশাল জেলা ছাত্রদলকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। এজন্য বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদিন এর সাথে সমন্বয় করতেও বলেছেন তারা।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পরে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা এবং ২৪টি কলেজ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল জেলা ছাত্রদল। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে এ জেলার ইউনিট কমিটিগুলো চূড়ান্তের নির্দেশনা ছিলো তাদের। সে অনুযায়ী কমিটি চূড়ান্তÍ করার লক্ষ্যে ঢাকায় দফায় দফায় বৈঠক করে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি।

এরই মধ্যে গৌরনদী থানা, পৌরসভা, কলেজ, বাকেরগঞ্জ থানা, পৌরসভা ও কলেজ, বানারীপাড়া থানা, পৌরসভা ও কলেজসহ মোট ৩টি পৌরসভা, ৬টি উপজেলা ও ১০টি কলেজ কমিটি চূড়ান্তÍ হয়েছে। তবে বাকি ২১টি কমিটি নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ছাত্রদলের জেলা এমনকি বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি। দফায় দফায় বৈঠকের পরেও প্রার্থীদের বয়স এবং বৈবাহিক অবস্থার কারণে কমিটি কার্যক্রম পিছিয়ে গেছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট কমিটি চূড়ান্তÍ হওয়ার কথা ছিলো। এজন্য ওই দিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার সুপার ফাইভ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি দীর্ঘ বৈঠক করে। সেখানে হিজলা এবং মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছড়ায়। তাই শেষ পর্যন্ত কমিটি চূড়ান্তÍ করতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় পিছিয়ে দেয়া হয়।

সূত্র গুলো আরও জানায়, হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রত্যাশী মহাসিন সিকদার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিঠুর একক প্রার্থী। তবে মহাসিন বিবাহিত এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এসএসসি পাসের সনের দিক থেকেও পিছিয়ে আছেন। তার পরেও নীতিমালা ভেঙে তাকেই পদে আনতে জোর প্রয়োগ করেন মিঠু।

এছাড়া মুলাদী উপজেলায় মহিউদ্দিন নামের একজন প্রার্থীর পক্ষে সুপারিশ করেছেন জয়নুল আবেদন। কিন্তু এ প্রার্থীর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ খুঁজে পেয়েছেন ছাত্রদলের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। মহিউদ্দিন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে অভিযোগ এনে মুলাদী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারু সম্পাদক মিঠু খাঁ এর সাথে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া, উপজেলা ও বিভিন্ন কলেজ ছাত্রলীগের নেতার সাথে তার তোলা ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত জেলা কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন।

অপরদিকে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী কবির মোল্লা। তার পক্ষে সুপারিশ করেছেন মুলাদী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছত্তার খান। তার সুপারিশকৃত প্রার্থীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ এবং তথ্য উপাত্ত জমা দেয়া হয়েছে জেলা কমিটিতে। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, কবির মোল্লা ২০১৯ সালে জাতীয় পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এছাড়াও বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এসব কারণে ২২ আগস্ট কমিটি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে বরিশাল জেলা এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘সম্প্রতি ভোলা জেলার বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। ওই কমিটি ঘোষণার পর পরই কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ ওঠে। কমিটি অস্বচ্ছ এবং অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি বলে অভিযোগ তুলেও বিক্ষোভও হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রদলের কমিটি গঠন সংক্রান্ত সমন্বয় কমিটি’র প্রধান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাকির হোসেনকে নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন বরিশাল অঞ্চলের বেশ কয়েকজন।

বিশেষ করে বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় সমন্বয় সভা শেষে স্থানীয় যুবলীগের শীর্ষ এক নেতার গাড়িতে উঠে ঘুরে বেড়ান। পাশাপাশি ওই নেতার সাথে কোন একটি মাদকের স্পটেও তাদের দেখা গেছে বলে উজিরপুর থানা যুবলীগ এবং ছাত্রদলের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ কারণে বিষয়টি ছাত্রদলের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এসব কারণে বরিশাল জেলার আওতাধীন ইউনিট কমিটি নিয়ে কোন ধরনের বিতর্কে জড়াতে চায়না কেন্দ্রীয় সংসদ। তার উপর বর্তমান বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটি এক বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে গত ১৮ আগস্ট। মেয়াদ শেষ হলেও জেলার সুপার ফাইভ কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারার ব্যর্থতার প্রভাবও পড়ছে উপজেলাসহ ইউনিট কমিটি গুলোতে।

কেন্দ্রীয় সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণার পরে স্থানীয় পদ বঞ্চিতরা বিদ্রোহ করেছিলেন। যা দীর্ঘ সময় জুড়ে চলতে থাকায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ইমেজ সংকটে পড়ে। তাই জেলার উপজেলা, পৌরসভা এবং কলেজ কমিটি নিয়ে পূর্বের ন্যায় নতুন করে যেন কোন বিদ্রোহের সৃষ্টি না হয় সে দিকটা বিবেচনা করে সময় বাড়িয়ে স্বচ্ছভাবে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

তাছাড়া বিবাহিত এবং অছাত্র নিয়ে সৃষ্ট গোলযোগ মিটিয়ে ৩০ আগস্টের মধ্যে কমিটি চূড়ান্তÍ করতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন এর সাথে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। তাদের সাথে সমন্বয় করে বাকি উপজেলা, পৌরসভা এবং কলেজ ইউনিটগুলো চূড়ান্তÍ করতে জেলা ছাত্রদলকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজ আলম মিঠু বলেন, ‘১৮ আগস্ট কমিটি চূড়ান্তÍ করার কথা ছিলো। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমরা দফায় দফায় বৈঠক করেছি। এরই মধ্যে ৩টি পৌরসভা, ১০টি কলেজ ও ৬টি উপজেলার কমিটি চূড়ান্তÍ করেছি। বাকিগুলো চূড়ান্তÍ করতে এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেই জেলার ৪০টি ইউনিট কমিটি চূড়ান্ত ভাবে ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ছাত্রদলের কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিভাগীয় সমন্বয় মো. জাকির হোসেন এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।