বিদ্যালয়ের বে-দখল সম্পত্তি উদ্ধারে রাজাপুরে প্রতিবাদী মৌন মিছিল

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

আককাস সিকদার, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠির রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বে-দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে প্রতিবাদী মৌন মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা মুখে কালো কাপড় বেধে প্রতিবাদী মৌন মিছিলটি বের করেন। মিছিলটি শহর ঘুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শেষ হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের প্রায় ৯ একর সম্পত্তির মধ্যে মাত্র ৬৭ শতাংশ জমিতে পাঁচটি ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটির বিপুল সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নানাভাবে দখল করে নিয়েছে। তারা সম্পত্তি আত্মসাত করতেই বিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সংকুচিত করে ব্যক্তিগত দোকান, অফিস, বাড়িঘরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সাহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পিটি-প্যারেড করার জায়গাটুকুও নেই। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিভিন্ন সময় বেআইনিভাবে লিজ দিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রভাবশালী ওই মহলটি। তাই গত দুইমাস ধরে বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। মৌন মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অ্যাড. সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ আলম নান্নু, সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান মোল্লা ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাজনীন পাখি। বক্তারা বলেন, আমরা সবাই আন্দোলন করছি, বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া সম্পত্তি বিদ্যালয়কে উদ্ধার করে দিতে। বিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জমিও বেদখলে থাকা চলবে না। প্রয়োজনে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে আমরা প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যাবো। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে যদি তৎপর না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া বেশকিছু সম্পত্তি ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি জমি নিয়ে মামলা চলছে। গত দুই মাসে অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে।’ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সম্পত্তি লিজ দেওয়ার কোন বিধান নেই। বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে লিজ দেওয়া সম্পত্তিগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা উদ্ধার করবো। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি উদ্ধার আন্দোলনে আমিও শামিল আছি।’