বিএম কলেজে অর্ধ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়ম!

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে অর্ধ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে উচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার পাঁয়তারা চলাচ্ছে টেন্ডার কমিটি। এর ফলে এক দিকে বিতর্ক, অন্যদিকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তবে অনিয়ম নয়, নিয়ম মেনেই সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন টেন্ডার কমিটির সংশ্লিষ্টরা।

জানাগেছে, ‘বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের ২০টি কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকার সিইডিপি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনের তত্ত্বাবধানে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ এবং সরকারি বরিশাল কলেজ এর সংস্কারসহ অন্যান্য খাতে উন্নয়নের দরপত্র আহ্বান করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

এর মধ্যে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে টাইলস এবং সংস্কার কাজের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ লক্ষ টাকা। কাজটি পেতে সাতটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দরপত্র জমা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে বরিশালের দুটি এবং ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম স্থানে থাকা মেসার্স সাদ এন্টারপ্রাইজ’র প্রোপাইটার জুয়েল জানান, ‘তার লাইসেন্সে কাজ করার জন্য দরপত্র জমা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ বাবু। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিকদার কনস্ট্রাকশন ও তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকার প্রতিষ্ঠান সিকদার এন্টারপ্রাইজ।

জুয়েল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যিনি সর্বনিম্ন দরদাতা হবেন তিনিই কার্যাদেশ পাবেন। এ নিয়মে সরকারি বরিশাল কলেজের কাজও আমরাই পেয়েছি। কিন্তু বিএম কলেজে ঘটছে উল্টোটা। যারা প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাদের বাদ দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিকদার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। এটা অনিয়ম এবং দুর্নীতি বলে দাবি করেছেন ওই ঠিকাদার।

 

অপরদিকে, সিকদার কনস্ট্রাকশন এর ঠিকাদার ছাত্রলীগ নেতা মুন্না বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা কোন কারণে বাতিল হলে আমরা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পাবো। কিন্তু এখানে রহস্যজনক কারণে প্রথম এবং দ্বিতীয় বাদ দিয়ে তৃতীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়া হচ্ছে। আবার তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি শর্তানুযায়ী সকল কাগজপত্র দরপত্রের সাথে জমা দিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

তবে দরপত্র মূল্যায়ন ও যাচাই বাছাই’র দায়িত্বে থাকা সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘এখানে কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হচ্ছে না। প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা যে প্রতিষ্ঠান হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠান শর্তানুযায়ী সকল কাগজপত্র দিতে পারেনি। তাই দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঢাকার সিকদার এন্টার প্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু সিকদার কনস্ট্রাকশন নামক যে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার বিষয়ে দাবি করছে সেটা ঠিক নয়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিষ্ঠান যে দর দিয়েছে তাতে বেশি হলে এক থেকে দেড়শত টাকার ব্যবধান। সিকদার কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার ভুল বুঝছেন। তাছাড়া এই টেন্ডারটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা যেভাবে বলছে আমরা সেভাবে কাজ করছি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঢাকা থেকেই হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক তপন কুমার সাহা।