বিএনপি’র সাবেক সাংসদ স্বপনের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা-ভাংচুর

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নগরীর ভাটিখানা এলাকায় গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র সংস্কার পন্থি নেতা জহির উদ্দীন স্বপনের বাসভবনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার দুপুর ২টায় গৌরনদী পৌর সভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র হান্নান শরীফসহ পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাটিখানা প্রথম গলিতে সাবেক সংসদের বাসভবনে মতবিনিময় সভা চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী কাউকে আটক করতে পারেনি তারা। পুলিশের দাবি হামলার ঘটনায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে।

সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ‘রবিবার সকালে আসন্ন গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হান্নান শরীফ ও অন্যান্য নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের নিয়ে ভাটিখানা প্রথম গলিতে শরিকল ভবনে মতবিনিময় সভা’র আয়োজন করা হয়। সভা চলাকালে দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে একদল বহিরাগত এসে জহির উদ্দিন স্বপন এর বাসভবনে লাঠি-সোটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মারধর ও চেয়ার ভাংচুর করে চলে যায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

তাদের হামলায় গৌরনদীর ছাত্রদল নেতা হাফিজুর রহমান, রাসেল খন্দকার, রোকনুজ্জামান ও সজিব খানসহ অন্তত ১০-১৫ জন আহত হন বলে অভিযোগ করেছেন গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হান্নান শরীফ। এদিকে, অভিযোগ তুলে বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আওয়ামীলীগের অত্যাচারে আমি দীর্ঘদিন নিজ গ্রামে মায়ের কবর জেয়ারতের জন্য পর্যন্ত যেতে পারছি না। এলাকায় গেলেই রাজনৈতিক হামলা-নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তাই বরিশালে নিজ বাড়িতে বসে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করছিলাম। এখানেও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে হামলা ভাংচুর চালিয়ে গেছে। হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা আজ নিজের ঘরেও নিরাপদ নন।

 

এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন বিএনপির এই শীর্ষ স্থানীয় নেতা। অপরদিকে, ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সগির হোসেন বলেন, ‘হামলার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। তবে কারা এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িত সে বিষয়টি অবগত নন জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যারা হামলার শিকার হয়েছেন তারাও কেউ হামলাকারীদের চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া এই ঘটনায় থানায় কোন লিখিত অভিযোগও আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।