বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম শুধুই সরোয়ার কেন্দ্রিক, প্রাধান্য পাচ্ছেন দলীয় কর্মীরা

প্রকাশিত: ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥ বিগত দিনে বছরের পর বছর বরিশাল জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাদের দখলে ছিল। সাবেক এসব জনপ্রতিনিধিদের বেশিরভাগই বর্তমান করোনা পরিস্থিতির সংকটকালীন সময়ে জনগণের পাশে নেই। অনেকে থাকছেন বরিশালের বাইরে। কয়েকজন গত ঈদের আগে প্রকাশ্যে ও মাঝেমধ্যে গোপনে কিছু সহায়তা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে এসব সহায়তা মূলত ছিল নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য। তবে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে এখন অবধি বরিশালে নিয়মিত কিছু ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সাংসদ এবং সিটি করপোরেশন মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার।

বরিশাল মহানগরীতে বিএনপির ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম দৃশ্যমান হয় মজিবর রহমান সরোয়ার ঢাকা থেকে এখানে এলেই। করোনাকালীন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ে একমাত্র তাকেই বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ত্রাণ প্রদান করতে দেখা গেছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন নিজ দলের কর্মীদেরকে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা।

এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, দুর্যোগ নিরসনে সকলের ঐক্যমতের অভাব আর জনপ্রতিনিধিদের চরম দুর্নীতির প্রতিফলন হিসেবে সরকারি ত্রাণ সহায়তায় আমাদের কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়। যে কারণে নিজেদের লোকদের বাঁচাতে আমাদের বেশী উদ্যোগী হতে হয়েছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন কেন্দ্রিক ত্রাণ সহায়তা শুরু করেছি আমরা। যে কারণে স্থানীয় অসহায় সকলে আমাদের ত্রাণ সহায়তা পাবেন বলে আশা করছি’। এছাড়া তাঁর অনুসারী হিসেবে বিবেচিত বরিশাল জেলা যুবদল সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় লকডাউন হওয়া পরিবার গুলোতে দু সপ্তাহের জরুরী খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি করোনা পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করেছে। সেখানে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে আছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সাংসদ ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল অংশ) বিলকিস জাহান শিরিন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র বরিশালে গত রোজায় সর্বশেষ কিছু ত্রাণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজস্ব আর্থিক জৌলুস না থাকায় খুব বেশি কিছু দিতে পারেন নি বলে স্বীকার করেন এই নেত্রী। তবে তাঁর দেওয়া ত্রাণ সামগ্রীর অর্ধেক দলীয় কর্মীরা বাকি অর্ধেক তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায় (হিজড়া), ভাসমান ক্ষুদে ব্যবসায়ী সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর অসহায়রা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই করোনাকালীন সময়ে শুধুমাত্র ঈদের আগে একবার সেখানকার এক হাজার মানুষকে কিছু খাদ্য সামগ্রী দিতে দেখা গেছে তাকে। তবে তিনি জানিয়েছেন, মোবাইলের মাধ্যমে অনেককে নগদ টাকা দিয়ে গোপনে সহায়তা করেছেন তিনি।

বরিশাল- ৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপি নেতা আবুল হোসেন খান। করোনাকালীন সময়ে তিনি এলাকাতেই যান নি বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘আমি নিজে করোনা আক্রান্ত ছিলাম। অসুস্থতার কারণে এলাকায় যেতে পারি নি’।

দীর্ঘ দশ বছর (১৯৯৬-২০০৬) বরিশাল- ২ (উজিরপুর -বানারীপাড়া) আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এছাড়া সর্বশেষ দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবেও তার নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু কোনো দুর্যোগে তিনি এখানকার বিএনপি নেতাকর্মী কিংবা গণমানুষের পাশে থাকেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি করোনাকালীন সময়ে বরিশালের মানুষদের সহায়তা করতে পারেন নি বলে স্বীকার করেছেন।

আর সর্বশেষ বিএনপি সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাবুগঞ্জের সেলিমা বেগমকে দীর্ঘদিন এলাকায় আসতে দেখা যায় নি। করোনাকালীন সময়ে কেন মানুষের পাশে নেই এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, গত রোজার ঈদের আগে এলাকার দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে কিছু ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন তিনি। তবে সামনে কোরবানির ঈদের আগে তিনি সেখানকার দরিদ্র অসহায়দের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করবেন।

Sharing is caring!