বাড়ছে কীর্তনখোলার পানি : নিমজ্জিত খেয়াঘাটে দুর্ভোগে বরিশালের যাত্রীরা

প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

এম. বাপ্পি ॥

বরিশালে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে নগরীর অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চল। এমনকি খাল ছাপিয়ে বসত ঘরে পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে পানি। এতে আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন অস্বস্তিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ব্রাউন কম্পাউন্ডের অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বসত ঘরে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন এলাকাবাসী। সেখানের বাসিন্দা গোলাম রাব্বি জানান, নদীর জোয়ারের পানি খালের মাধ্যমে ঘরে প্রবেশ করছে। যদিও সেটা এখন আর খাল নেই, ড্রেনে পরিণত হয়েছে। আর এই ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঘরে প্রবেশ করায় রান্নাসহ প্রায় সব কাজেই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এদিকে শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ড্রেনের মাধ্যমে পানি ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে স্টেডিয়াম কলোনি, কেডিসি, ভাটারখাল, পলাশপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। নিমিজ্জত হয়েছে ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডও। এছাড়া অন্যান্য এলাকার নিম্নাঞ্চলও জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে কীর্তনখোলার পানি বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। ফলে নগরপ্রান্তের খেয়াঘাটগুলো নিমজ্জিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এক হাঁটু পানি পেরিয়েই তাদের উঠতে হচ্ছে ট্রলারে। গত দুইদিন যাবত এমন অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রলার চালকরা। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগর প্রান্তের প্রায় সবগুলো খেয়াঘাটই নিমজ্জিত নদীর বাড়তি পানিতে। নগরীর চাঁদমারি খেয়াঘাটের একাধিক চালক জানান, হাঁটু পানি পেরিয়ে ট্রলারে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। যানবাহন পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। আর ছোটখাট দুর্ঘটনা তো নিত্যসঙ্গী।

চরআইচার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মুরাদ জানান, বরিশাল নগরীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে আসতে চাঁদমারী খেয়াঘাটটি নিয়মিত ব্যবহার করতে হয় তাকে। তবে এখানে কোন পন্টুন নেই। তাই অস্থায়ী ঘাটটি নদীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। জরুরিভিত্তিতে এখানে পন্টুন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই দাবি জানিয়েছেন চরকাউয়া খেয়াঘাটের যাত্রী এবং চালকরা।

জানতে চাইলে ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদুল্লাহ কবির জানান, চাঁদমারি খেয়াঘাটটিতে স্থায়ী পন্টুন স্থাপন এখন সময়ের দাবি। পন্টুনের কারণে নানবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ঘাট ব্যবহারকারীরা। তবে পন্টুন স্থাপনে দরকার বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

কীর্তনখোলার গেজ রিডার আবু রহমান জানান, নদীর পানি বাড়ছে তবে সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার পানি বৃদ্ধির হার অনেকটাই কম। এই নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। সোমবার পানির প্রবাহ ছিল বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপরে। বর্তমানে পানির স্তর রয়েছে ২.৬৭ মিটারে। যার স্বাভাবিক উচ্চতা থাকার কথা ২.৫৫ মিটার। অমাবশ্যার জো’র কারণে নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে শীঘ্রই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!