বামনায় প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করায় স্বামীকে স্ত্রীর জুতাপেটা

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

বরগুনা প্রতিনিধি ॥ বরগুনার বামনা উপজেলায় বাক প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণ করায় স্বামীকে জুতাপেটা করলেন তার স্ত্রী। বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়নে ১৪ বছরের এক মানসিক কিশোরী প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫ টায় বামনা সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শফিপুর গ্রামের ঘটনাটি এটি। ধর্ষিতার পরিবার অসহায় দরিদ্র হওয়ায় প্রভাবশালী মহল স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয়রা জানান, ধর্ষিতা কিশোরী অসুস্থ থাকলেও তাকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে না, অপরদিকে অর্থের অভাবে ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবারও তাকে চিকিৎসা করাতে পারছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনা উপজেলা সদরের পশ্চিম সফিপুর গ্রামের সুলতান প্যাদার ছেলে বাবুল প্যাদ্যা (৩৮) একই গ্রামের ১৪ বছরের মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে তার বসত ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন।

এসময় ধর্ষিতা কিশোরীর ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ধর্ষক বাবুল প্যাদা পালিয়ে যান।

সূত্র আরও জানান, ধর্ষক বাবুল প্যাদার স্ত্রী পারভীন তার স্বামীকে জুতাপেটাও করেছেন। বর্তমানে ধর্ষিতা কিশোরী বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না ধর্ষিতার পরিবার। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ধর্ষিতার বাবা খবির প্যাদা জানান, আমরা গরীব, তাই আমাদের পক্ষে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই। এলাকার অনেক মোড়ল আছেন, তারা আমাকে হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া তারা আমাকে বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতিও দেখান এবং থানায় যেতে নিষেধ করেন। যদি আমি এবিষয়ের জন্যে থানায় যাই তাহলে তারা আমাকে মেরে ফেলবেন বলেও নানা ভয় ভীতি দেখান।

তিনি আরও বলেন, আমার এই প্রতিবন্ধী মেয়েকে যে বাবুল প্যাদা ধর্ষণ করেছে আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইলিয়াছ হোসেন তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় আমি এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।