বাবুগঞ্জে ১১০ গৃহহীনকে ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী : ব্যক্তি অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে আরো ৫ টি

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ স্থায়ী ঠিকানা পাচ্ছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার গৃহহীনরা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ উপজেলায় আগামী শনিবার প্রথম ধাপে ১১০ গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গৃহহীনদের ঘর দেয়ার বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা পূরণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।

জন্মশতবার্ষিকীতে বাবুগঞ্জ উপজেলার মোট ১৭০ পরিবারকে ৭০০ বর্গফুটের বাড়ি দেয়া হচ্ছে। মুজিববর্ষের আয়োজন সার্থক করতে নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। সরকারের এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও বিত্তবানরা। বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক দুলালের ব্যক্তিগত অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে একটি ঘর, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরোয়ার মাহমুদ’র ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি হচ্ছে ২ টি ঘর ও কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী নিজের টাকায় গড়ে দিয়েছেন ১টি।

 

এছাড়াও বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নেতাদের অর্থায়নে তৈরি হয়েছে আরো একটি ঘর।

এদিকে প্রকৃত গৃহহীনরাই যাতে এই ঘরে ঠাঁই পান সে লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যাচাই-বাছাই করা হয়েছে কয়েক ধাপে। প্রকল্পটি সরাসরি তদারক ও বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন, মুজিববর্ষে দেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। জানা গেছে, সরকারের তিনটি কর্মসূচির আওতায় দেশের ভূমিহীন ঠিকানাহীন মানুষদের ঘর তৈরি করে দেয়ার কাজ চলছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি প্রকল্প। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২।

তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা যৌথভাবে গৃহহীনদের জন্য নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করবেন। অনেক আগে থেকেই এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন পরিবার সহ বিভিন্ন কারণে যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়েছেন তাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এসব প্রকল্পের অনেক বাড়িঘর সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আবার অনেক বাড়ি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকার ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে কোন জেলায় কতজন ভূমিহীন, গৃহহীন ও জমি আছে ঘর নেই এমন মানুষের তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকা থেকেই এখন সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমীনুল ইসলাম জানান, উপজেলাব্যাপী ১৭০টি ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সরকারি জায়গায় এই ঘর করা হবে। আমরা আশা করছি আগামী শনিবারের মধ্যে ১১০ টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। পর্যায় ক্রমে অন্যান্যদের মাঝেও ঘর হস্তান্তর করা হবে।