বাবুগঞ্জে সাবেক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে খাসজমি অবৈধভাবে বন্দোবস্ত নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৩৯ নং মুশুরিয়া মৌজার সাবেক সার্ভেয়ার মোঃ হুমায়ূন কবির ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করে ১৭ একর ৪৫ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত নেয়ায় স্থানীয় আঃ রশিদ হাওলাদার বাদী হয়ে বরিশাল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসের সাবেক সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির বাবুগঞ্জের ভূমি অফিসে চাকুরি করার সুবাদে নিজের ছেলে ও নিজের নামসহ ১১ জনের নামে ১৭ একর ৪৫ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত নেন।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বরিশাল জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও বন্দোবস্ত ওই জমি বিক্রির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে হুমায়ুন কবির সহ একটি চক্র। এছাড়াও সাবেক এই সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালন কালে ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সার্ভেয়ার হুমায়ূন কবির এর বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মাধবপাশা ইউনিয়নের মোঃ আঃ রহিম হাওলাদার।

অভিযোগ দায়ের করার পর ঘটনার সত্যতা পেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক সরকারের পক্ষে বাদী হয়ে ২০১৭ সালে সাবেক সার্ভেয়ার হুমায়ুনসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সার্ভেয়ার নয়া কৌশল করে আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে জমি বিক্রির জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়ায় তিনি সম্প্রতি ৪ একর ৫০ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। জেলা প্রশাসকের দায়ের করা মামলার পর প্রতারক সার্ভেয়ার ও তার নিযুক্ত আজাদ মিয়া প্রভাব খাটিয়ে মামলাকে তোয়াক্কা না করে দেদারসে খাস জমি বিক্রি করছেন।

সরকারি খাসজমি যাতে বিক্রি করতে না পারে তার প্রতিকার চেয়ে আঃ রহিম হাওলাদার গত ২৭ অক্টোন্বর জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগষ্ট ২০২০ ইং দলিলমূলে ৩একর দলিল নং ১২১১এবং ১১জুন দলিল মূলে ১একর ৫০শতাংশ দলিল নং ১৭৮৩ নং দলিলমূলে জমি বিক্রি করেছেন। উক্ত অভিযোগটি তদন্ত করে বন্দোবস্ত কেস বাতিল করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর গাজী তারিক সালমন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক সার্ভেয়ার মোঃ হুমায়ূন কবির ২০১৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলায় সার্ভেয়ার হিসেবে যোগদান করেন। তার পৈত্রিক ভিটা আগৈলঝাড়া উপজেলায় কিন্তু বর্তমানে বরিশাল শহরের গোরস্থান রোডে বাড়ি করে বসবাস করছেন। চতুর সার্ভেয়ার বিভিন্ন কৌশলে বাবুগঞ্জ উপজেলার মুশুরিয়া মৌজায় ১৭ একর সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে বিএস রের্কড করেন। এ সময় ওই ঘটনা জানাজানি হলে ২০১৪ সালের মে মাসে তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল আলম জেলা কমিটির বন্দোবস্ত সভায় বাবুগঞ্জ উপজেলার ওই বরাদ্দকৃত সরকারি খাসজমির নথি তলব করা হলে তার কোন সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দায়ীদের বিরদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

 

এ সময় বিএস জরিপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলা হয়। এর পর বরিশাল ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে বিএস রেকর্ডের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নাম্বার -৪২। মামলা উপেক্ষা করে হুমায়ুন কবির ওই জমি ভোগদখল না করে কাগজ দেখিয়ে স্থানীয় সাব রেজিস্ট্রারের সাথে আঁতাত করে জমি বিক্রি করে আসছেন বলে এলাকার বাসিন্দারা জানান।

খাসজমি বন্দোবস্ত নেয়ার ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত সাবেক সার্ভেয়ার মোঃ হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।