বাবুগঞ্জে নদী ভাঙনকবলিতদের মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

বাবুগঞ্জ সংবাদদাতা ॥

বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম তলিয়ে পুকুর ও মাছের ঘেরসহ কয়েক’শ হেক্টর ফসলি জমির বীজতলা ও রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

বন্যার পানির তোড়ে নদী ভাঙনে ফসলসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে গ্রামের বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।

নদী ভাঙনে কেদারপুর, রহমতপুর, জাহাঙ্গীর নগর ও দেহেরগতি, চাঁদপাশা সহ ৫ টি ইউনিয়নের ২০টি স্পটে ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। গ্রামগুলো হচ্ছে রহমতপুর ইউনিয়নের মানিককাঠী, মহিষাদী, ক্ষুদ্রকাঠী, রাজগুরু, লোহালিয়া, সিংহেরকাঠী, কেদারপুর ইউনিয়নের ছানি কেদারপুর, পূর্বভুতেরদিয়া, নতুনচর, ভূতেরদিয়া, দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া, রাকুদিয়া, চরসাধুকাঠী, বাহেরচর বাজার, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রহিমগঞ্জ, লাশঘাটা, ভাঙার মুখ, চাঁদপাশা ইউনয়নের রফিয়াদী, নোমরহাট সহ ২০টি গ্রাম নদী ভাঙনে সহস্রাধিক লোক নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
নদী ভাঙনের পর আবার বন্যায় সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রবল স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে।

শনিবার ভোরবেলা মীরগঞ্জ এলাকায় আলতাফ হোসেনের বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

একদিকে করোনার প্রকোপ অন্যদিকে নদীর ভাঙন ও বন্যার পানিতে সব কিছু হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ৬টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক শাহজাহান খান জানান, ১৯৯৮ সালের পর এমন বন্যা আর দেখেনি, সব পানিতে ভাইসা গেছে।

নদীতে অতিরিক্ত স্রোতের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন জেলেরাও। গতপরশু মীরগঞ্জ ও রহমতপুর বাজারে কয়েকটি মাছের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে কোন মাছ নেই। মাছ ধরার জেলেরা জানান, গত ৭ দিন ধরে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।
৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার পুকুর প্রায় ২শত একর পানের বরজ ও শতাধিক মুরগী র্ফাম ও গবাদিপশু ক্ষতির মুখে পড়েছে।

রাকুদিয়া গ্রামের পোল্ট্রি মুরগীর খামারি মোঃ রিয়াজ হাজী বলেন, তার ঘরে ও খামারে পানি ঢুকে অনেক মুরগী মারা গেছে। আশপাশের রাস্তাও পানিতে তলানো। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এ এলাকায় অনেক খামারি পরিবার।

উপজেলা প্রকপ¬ বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, বন্যায় এ উপজেলার ৪ হাজার ৫ শ হেক্টর ফসলি জমি, ৩ শত ৭০ হেক্টর বীজ তলা ও প্রায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি পুরো ও সহস্রাধিকের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শুধু ঘরবাড়ি নয় এখানকার ফসলি জমি পানের বরজ ও প্রচুর পুকুর মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আমীনুল ইসলাম বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙনে বিলীন হওয়া বসতবাড়ি এবং ক্ষয়- ক্ষতির তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট অফিসকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এখনই জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি আমরা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!