বাবুগঞ্জে ধান কাটায় শ্রমিক সংকট, বিপাকে কৃষক

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০২০

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ::
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দুর্যোগে এবার আমনের ফলন কম হয়েছে। তবুও ধান কাটা মৌসুম শুরু হওয়ায় নতুন বিপত্তি দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরিতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষীরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না বলে মাঠ পর্যায়ের তথ্যে জানা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে।

বাবুগঞ্জের ক্ষেতে ক্ষেতে পাকা আমন ধান দোল খাচ্ছে। কিন্তু সেখানে যেমন শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তেমনি মজুরিও বেশি যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
বাজারে নতুন ধান ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা চাঁদপাশা, মাধবপাশা, দেহেরগতি, কেদারপুর, জাহাঙ্গীর নগর, রহমতপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় পাকা ধান এখনও কাটা হয়নি। ওইসব এলাকার এলাকার একাধিক কৃষক জানান, প্রতি বছর উত্তর অঞ্চল থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক আসত। করোনার কারণে এবারের উত্তর অঞ্চলের পরবাসীদের দেখা মিলছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: নাসিরউদ্দিন জানান, এ বছর করোনার কারণে বাহিরের শ্রমিক না আসায় এ সংকট হচ্ছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় ধান কাটায় নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে কৃষকদের।

এ ব্যাপারে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, এবার বন্যায় ধানের উৎপাদান মোটামুটি, তবে একেবারে খারাপ না। তবে গতবারের চেয়ে ফলন কিছুটা কম। ইতোমধ্যে আমন ধান কর্তন শুরু হয়েছে উফসি ৩৫ ভাগ, স্থানীয় ১০ ভাগ। বাবুগঞ্জে আমনের ফলন হয়েছে বেশ ভাল। তবে গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম।

তিনি বলেন, গড়ে গত বছর উফসি ধান থেকে প্রতি হেক্টরে চাল উৎপাদন হয়েছে ২.৮৫ মেট্রিক টন। অবশ্য চলতি বছর চলতি বছরে চাল উৎপাদন হচ্ছে প্রতি হেক্টরে ২.৭৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছর অপেক্ষা এবার চাল উৎপাদন প্রতি হেক্টরে কমেছে ০.০৯ মেট্রিক টন। এখনও ৬৫ ভাগ ধান কর্তন বাকি রয়েছে।

ধান কাটায় শ্রমিক সংকট এবং বাড়তি মজুরি প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট ততোটা নেই। করোনার কারণে কর্মসংস্থানের জন্য অনেকেই ধান কাটায় নিয়োজিত হচ্ছে। তাছাড়া কোন কোন স্থানে হার্ভেস্টার মেশিনে ধান কর্তনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপরও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কৃষকদের সমস্যা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।