বাবুগঞ্জে গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা গঠনে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

জহিরুল অরুন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বাবুগঞ্জে সরকারি বরাদ্দকৃত গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ প্রদানের ঘোষণায় চলছে আবেদন ও তালিকা গঠন। অনলাইনসহ প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১ শত ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধা গৃহ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন। সেক্ষেত্রে ভাতাপ্রাপ্ত প্রকৃত গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরিতে চলছে যাচাই বাছাই। উপজেলাটির ৬টি ইউনিয়নের মোট ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ওই গৃহ প্রদান করা হবে যারা গৃহহীন, অসচ্ছল, অসহায় এবং জরাজীর্ণ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগ উঠেছে আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা গৃহ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল অথচ তারা গৃহ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন। শুধু তাই নয় গৃহ প্রাপ্তির জন্য ৬ ইউনিয়নের কমান্ডারগণও আবেদন থেকে বিরত থাকেননি। এমনটি জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার আনিচুর রহমান সিকদার। আবার এদের জন্য চলছে জোর সুপারিশ।

এয়ারপোর্ট থানাধীন ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন’র বিধবা স্ত্রীর কাছে গৃহ বরাদ্দ দেয়ার জন্য চলছে টাকা দাবীর হয়রানি। টাকার জন্য তার কাছে একাধিকবার তাগাদা দেয়াতে তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনটি জানিয়েছে একটি সূত্র। তালিকাভুক্তির জন্য একাধিক মহল থেকে উঠেছে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও। তবে তা অস্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিচুর রহমান বলেন, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।

নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, “শুনেছি তালিকা গঠনে সহায়ক একজন মুক্তিযোদ্ধা যাতায়াতের খরচের জন্য মোটরসাইকেলের তেল বাবদ ২ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন”। তালিকা গঠনে সরেজমিন তদন্তপূর্বক যাচাই বাছাই করে প্রকৃত গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাগণ যাতে গৃহ পেতে পারেন সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে তালিকা গঠন ও যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার বলেন, সরকারি গৃহ বরাদ্দে কোন প্রকার অনিয়ম মেনে নেয়া যাবেনা। সরকারি নীতিমালার আওতায় বিভিন্নদিক পর্যালোচনা ও যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত গৃহহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এতে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।