বাবুগঞ্জে গুড়িয়ে দেয়া ইটভাটা ফের চালু

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১

 

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জে গত মাসে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। উপজেলার ৪টি ভাটা গুড়িয়ে দিয়ে রহস্যজনক কারণে অভিযান বন্ধ রাখে দপ্তরটি। এর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে ফেলা ইটভাটাগুলোতে কাঠ পুড়িয়ে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং ফসলি জমি ঘেঁষে এসব অবৈধ ইটভাটা চললেও পরিবেশ অধিদপ্তর দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। অধিদপ্তরটির ইশারায়ই ভেঙে ফেলা ভাটাগুলো কাঠ পুড়িয়ে ফের ইট প্রস্তুত করছে। এতে ওই এলাকার বসতবাড়ির মানুষ বিরূপ স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

 

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটা হিসেবে চিহ্নিত ৯৬টির মধ্যে বাবুগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৮টি। তবে বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় তথ্যমতে, অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। শীত মৌসুম আসলেই এগুলোতে চলে লোক দেখানো অভিযান।
গত ২৫ জানুয়ারী বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর বাবুগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪টি ইটভাটা ভেঙে ফেলে। তবে শুক্রবার বাবুগঞ্জে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভেঙে ফেলা ইটভাটাগুলোতে আবারও কাঠ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুতের কাজ চলছে। উপজেলার দোয়ারিকা সেতু সংলগ্ন হোপ ব্রিকস গত মাসে ভেঙে ফেলা হলেও এখন আবার সেটি চলছে। একই অবস্থা পাশের ৩টি ভেঙে ফেলা ইটভাটার।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বন্ধ করে দেয়া এ ইটভাটাগুলোর ড্রাম চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া উড়ছে আশপাশের ঘনবসতি এলাকায়। ওই এলাকার ইটভাটায় কর্মরত একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, মালিক পক্ষ আবার ভাটা চালু করেছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর এসব অবৈধ ইটভাটা চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরও লোকদেখানো অভিযান করে ভাটা মালিকদের লালনপালন করছে। অথচ এই এলাকার সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো: কামরুজ্জামান সরকার কে মোবাইল করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিন, তাই কথা বলবেন না।’
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, তারাও শুনেছেন যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভেঙে ফেলা ইটভাটাগুলো নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছে। এগুলোর বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।