বাবুগঞ্জে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমিতির সঞ্চয় উত্তোলনে উৎকোচ দাবী !

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের গ্রাম উন্নয়ন সমিতির মাঠ সহকারীর বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৫০০ টাকা সঞ্চয় উত্তোলন করতে ২০০০ টাকা উৎকোচ দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ অভিযোগে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমীনুল ইসলাম এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন হাসিনা বেগম নামের এক সদস্য।
টাকা জমা দিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ সুবিধাভোগীর বদলে ভুক্তভোগী হয়ে গেছেন। এ ছাড়া আরও বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত প্রকল্পের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ২০১১ সালে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।
কিন্তু ২০১৯ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ আমার বাড়ি আমার খামার ‘এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৪২ নং ক্রমিকের সদস্য হাসিনা বেগম ২০১২ সালে সমিতির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। ওই টাকা গতবছর জুন মাসে পরিশোধ করা হয়েছে। এসময় তার নামের সঞ্চয় বহিতে ৪৫০০ টাকা জমা হয়। উক্ত টাকা হাসিনা বেগম উপজেলা অফিসে আনতে গেলে ৩/৪ বার তাকে মাঠ সহকারী মো. আঃ রাজ্জাক আজ না কাল বলে সময়ক্ষেপণ করেন। সোমবার আবার টাকার জন্য গেলে প্রকল্পের মাঠ সহকারী মো. আঃ রাজ্জাক টাকা পেতে তার কাছে ২০০০ টাকা উৎকোচ দাবী করেন।

এরপর হাসিনা বেগম ফিরে এসে তার জমানো টাকা ফেরত পাবার জন্য মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমীনুল ইসলামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এ উৎকোচের ব্যাপারে অভিযুক্ত মাঠ সহকারী রাজ্জাকের কাছে জানতে মঙ্গলবার বিকেলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারি হেমলাল বাইন বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে আমি জেনেছি। তবে আজই সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে মাঠ সহকারী রাজ্জাকের খামখেয়ালি বলে উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ১৪৩ টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি রয়েছে। এসব সমিতিতে গড়ে প্রায় ৬০ জন করে সদস্য রয়েছেন। সমিতির হতদরিদ্র সদস্যরা মাসিক ২দশ টাকা করে কিস্তির মাধ্যমে বছরে মোট দুই হাজার ৪দশ টাকা সঞ্চয় করেন। পরবর্তী সময় নিয়মানুযায়ী ওই সদস্যের হিসাবের অনুকূলে সরকারি সমপরিমাণ টাকা জমা হওয়ার কথা। এক বছর পর থেকে প্রত্যেক সদস্যকে সঞ্চয়, সরকারি ঋণ ও প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা মিলে সমভাবে বণ্টনের মাধ্যমে ঋণ দিতে হবে।

এ নিয়মের তোয়াক্কা না করে সদস্যদের জমা টাকা থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ।
উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামারের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যরা এই প্রকল্পের সাথে জড়িত অসাধু ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান। দ্রুত এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারের প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়বে বলে জানান তারা।