বাবুগঞ্জে ইলিশ কিনতে নদী পাড়ে ব্যাগ-বস্তা নিয়ে ক্রেতার ভিড় !

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ::

বরিশালের বাবুগঞ্জে ১ কেজি ওজনের ৫ টি ইলিশ মাত্র ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধ্যা, সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে এ দামে মাছ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।
বেশি মুনাফার আশায় এক শ্রেণীর অসাধু জেলে নদীতে মাছ শিকার করছেন। কোনো অভিযানেই থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ ধরা ও বেচাকেনা। মাছ কিনতে নদী পাড়ে ব্যাগ ও বস্তা নিয়ে ক্রেতাদেরও আনাগোনা দেখা যায়। নদী পাড় থেকেই মাছ কিনে বস্তা বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। অভিযান একপাশে চললে অন্যপাশে চলে জেলেদের মাছ ধরা ও বেচাকেনা।

সুগন্ধ্যা নদীর দেহেরগতি, বাহেরচর বাজার, সন্ধ্যা নদীর জাহাঙ্গীর নগর ও কেদারপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গার মুখ, রমজানকাঠী, শিলন্দিয়া, মোল্লার হাট বাজার, ছানিকেদারপুর, স্টিমারঘাট, পূর্ব কেদারপুর, পশ্চিম ভুতেরদিয়া, আড়িয়াল খাঁ নদীর রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের রাজগুরু, নয়াচর, সিংহেরকাঠী, নোমর হাট, ছোট মিরগঞ্জ, রফিয়াদি এলাকার সব স্পটে মাছ অবাধে নিধন চলছে। এক কেজির সাইজের ইলিশের হালি (৪টি) ১৬শ’টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে। ক্রেতারা গোপনে মাছ কিনে ফ্রিজ ভরছেন। এমনকি বিভিন্ন মাছের আড়তদারের কাছে বিক্রিও করছেন। জেলেরা রাতের আঁধারে মা ইলিশ শিকার করে গোপনে বিক্রি করেন। আগের চেয়ে অনেক কম দামে এ ইলিশ বিক্রি করছেন তারা। ৭শ থেকে ৮শ গ্রামের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ৬শ” টাকায়।

ইলিশ রক্ষায় নদীগুলোতে রাত-দিন প্রশাসনের জোরালো অভিযান থাকলেও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে জাল নৌকা নিয়ে নদীতে মা ইলিশ শিকারের খেলা।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. সাইদুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা তিনটি নদী দ্বারা বেষ্টিত থাকায় একদিকে অভিযান চালালে অন্য প্রান্তে জেলেরা নদীতে জাল ফেলছে। তিনি আরো বলেন, নদীতে অভিযান চালানোর সময় এক শ্রেণীর অসাধু জেলেদের নিয়োজিত লোক নদীর পাড়ে পাহারায় থাকে। আমরা অভিযানে যাওয়ার আগে মোবাইল ফোনে তাদেরকে খবর পৌঁছে দেয়ায় অসাধু জেলেদের ধরতে বেগ পেতে হচ্ছে।

তবে আমাদের অভিযান সফল করতে সব ধরনের কার্যক্রম ও প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি অভিযান চালানো হচ্ছে।

Sharing is caring!