বাবুগঞ্জে আ’লীগ নেতা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জমির দালালি!

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় ডেকরেটর ব্যবসায়ী এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেন খোকন সিকদার (৪০) হত্যাকা-ের ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তাও নিশ্চিতভাবে উদঘাটন করতে পারেনি তারা। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। এমনকি একই ইঙ্গিত দিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা ও মাধবপাশা বাজারের ডেকরেটর ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন খোকন সিকদার। তিন কন্যা সন্তানের জনক তিনি। তার ছোট মেয়ের বয়স ৮ মাস। ডেকরেটর ও মুদি ব্যবসার পাশাপাশি তিনি জমির দালালি করতেন বলে দাবি পুলিশের। জমি বেচা কেনার মধ্যস্ততা করতেন তিনি। এর বাইরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মাধবপাশা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাধবপাশা বাজারে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা ও ডেকরেটর ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন খোকনকে হত্যার কারণ কি তা বলতে পারছে না পরিবারও।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ হত্যার সঠিক রহস্য কি তা নিশ্চিত হতে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা। তিনি জানান, ‘ফুলতলা গ্রামে বিরোধীয় ১৩ শতাংশ জমি কেনাবেচায় সহায়তা করা নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হতে পারেন লোকমান হোসেন খোকন। কেননা ওই জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে মর্মে মাত্র কয়েক দিন আগে গড়িয়ারপাড়ে কাউন্সিলর কালাম মোল্লার কার্যালয়ে বিচার নিয়ে গিয়েছিলেন লোকমান হোসেন। কিন্তু ঘটনাটি সিটি এলাকার বাইরে হওয়ায় তিনি (কালাম মোল্লা) তাকে মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এবং থানা পুলিশের কাছে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কালাম মোল্লা। এ ঘটনার ক’দিন না যেতেই খুন হন লোকমান। ওই বিরোধই তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন এই কাউন্সিলর।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এসএম জাহিদ বিন আলম বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হত্যাকা-ের ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। এমনকি ওই সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেউ অভিযোগ ও আজ শনিবার রাত পর্যন্ত তার ময়না তদন্তও হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার রহস্য কি সেটা এখনো পুরোপুরিভাবে উদঘাটন সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে বেশি কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। যার মধ্যে অন্যতম জমির ব্যবসা। লোকমান হোসেন খোকন সিকদার ব্যবসার পাশাপাশি জমির দালালি করতেন। জমি বেচা-বিক্রি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আরও অধিকতর তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

প্রসঙ্গত, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাধবপাশা বাজারে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন লোকমান হোসেন খোকন সিকদার। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রাত ১১টার দিকে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে এসে মাধবপাশা গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে পড়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ শেবাচিমের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

Sharing is caring!