বাবুগঞ্জের সাথী ১৮ বছর ধরে থাকছেন গণশৌচাগারে: পাননি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ উপজেলা ব্যাপী ১৭০ টি ঘর দেয়া হয়েছে বরাদ্দ। গৃহহীন পরিবার টি দেখেছিলো আশার আলো, দেখেছিলো নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন। তালিকা তৈরীতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় গৃহহীন পরিবারটির ভাগ্যে জেটেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর! জমি, বসতঘর কিছুই না থাকায় ১৮ বসর ধরে থাকছে উপজেলার বাবুগঞ্জ বন্দরের পরিত্যক্ত গণশৌচাগারে।

 

‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে আবাসন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৩ জানুয়ারী দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি বিতরণ উদ্বোধন করেন। এ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে ১৭০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১১০ টি পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এই বরিশালের বাবুগঞ্জে সহায় সম্বলহীন সুমন-সাথী আক্তার দম্পতি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে বেছে নিয়েছেন পরিত্যক্ত পাবলিক টয়লেট (গণশৌচাগার)।

 

জানা গেছে, ১৮ বছর পূর্বে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থেকে জীবিকার তাগিদে বরিশালের বাবুগঞ্জে এসেছিলেন সাথী আক্তার ও সুমন দম্পতি। ২০০৩ সালের দিকে জীবিকার তাগিদে স্বামীর সাথে বাবুগঞ্জ বন্দরে বসবাস শুরু করেন সাথী। পেশা হিসেবে সুইপারের (মেথর) কাজ করেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বাবুগঞ্জে বসবাস করলেও জোটেনি তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা।

সাথী আক্তারের আকুতি ৫ টি সন্তান নিয়ে যেন মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই হয় সেইটুকু ব্যবস্থা করে দেন যেন  প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, পঙ্গু স্বামী আর ৫টি শিশু সন্তান দিয়ে কোন রকম মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। মাথা গোঁজার নিজস্ব কোন ঘর না থাকায় বাবুগঞ্জ বন্দরের গণশৌচাগারের সেফটি ট্যাংকের উপরে বসতি গড়েছেন। ময়লার দুর্গন্ধ নিয়ে পার করে দিয়েছেন ১৮ টি বছর। কিন্তু সেই ঘরটিও আজ জীর্ণতায় বাসা বেধেছে। মেঝেতে শৌচাগারের ময়লার ট্যাংক আর মাথার উপর সামান্য কয়েকটি টিন তাও আবার ভেদ করে বর্ষা মৌসুমে পানি পড়ে। আবার প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহেও শীতে কাতর হচ্ছে পরিবারটি। সাথীর বেশি কিছু চাওয়া নেই সমাজের কাছে। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুক যেন বৃষ্টির জল আর শৈত্যপ্রবাহকে আটকাতে পারে, সেইটুকুই চাওয়া। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জেলানী সাজোয়াল বলেন, ওই দম্পতির জাতীয় পরিচয় পত্র নেই। এ ছাড়া সময় স্বল্পতার কারণে তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করাও সম্ভব হয়নি। এ কারণেই তারা ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমীনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খোঁজ নিয়েছি। তিনি আসলেই প্রকৃত ভূমিহীন। ওই দম্পতির জাতীয় পরিচয় পত্র নেই। তাদের অতিদ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র করার ব্যবস্থা সহ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও ঘর পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।