বাবা-মায়ের ভুলের খেসারত জীবন দিয়ে দিলেন বরিশালের মেয়ে তানজিলা

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

হত্যা মামলা দায়ের ॥ স্বামী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল নগরীর মেয়ে এবং ইডেন কলেজের ছাত্রী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানজিলা রহমান আয়নাকে নির্যাতনের পর বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গৃহবধূ কলেজ ছাত্রীর স্বামী জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ছাত্রীর ভাই সাইফুর রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আটক স্বামী জহিরুল ইসলাম জনি মোল্লাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাউধের খিল গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত স্বামী জহিরুল ইসলাম জনি মোল্লা ওই গ্রামের মো. মহসিন মোল্লার বড় ছেলে।
এছাড়া নিহত তানজিলা আক্তার আয়না বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন ভাটিখানা এলাকার পান্থ সড়কের নাবিক নীড়ের বাসিন্দা সাইদুর রহমানের মেয়ে। তিনি ঢাকা ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

তারা আরও জানিয়েছেন, ‘২০১৬ সালে জহিরুল ইসলাম জনির সাথে বিয়ে হয় তানজিলা আক্তার আয়নার। অভিযোগ রয়েছে পূর্বে বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তানজিলাকে জনির সাথে বিয়ে দেয় তার পরিবার। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। এরপর দফায় দফায় সালিস-বৈঠকের পর তানজিলাকে লক্ষীপুরে তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে স্বামীর পিড়াপিড়িতে অন্তঃসত্ত্বা হন তানজিলা আক্তার আয়না। এর পর থেকেই তার উপরে নেমে আসে নির্যাতনের স্টিম রোলার। সবশেষ গত ৮ আগষ্ট তানজিলাকে নির্যাতনের পরে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তার পরিবারের।

এদিকে বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বড় ভাই সাইফুর রহমান বোনের শ্বশুর বাড়িতে চলে যান। পরে এই ঘটনায় তিনি বোন জামাই, তাঁর বাবা, মা, চাচী ও এবং ছোট ভাইকে আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তানজিলাকে নির্যাতনের পরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

তানজিলার ভাই সাইফুর রহমান বলেন, ‘ বেশ কয়েক মাস থেকে তানজিলার স্বামী আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমার বোন মাঝে মধ্যে গোপনে আমাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতো। শুক্রবার রাতে সে আমাদের সাথে ফোনে কথা বলেছে। এর পর দিন শনিবার তার স্বামী জনি ফোন করে তানজিলার মৃত্যুর সংবাদ দেয়।

Sharing is caring!