বানারীপাড়ায় ৮ যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন: একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২০

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া (বরিশাল)প্রতিনিধি॥ বরিশালের বানারীপাড়ায় সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে কাওসার (২৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা ও এক গ্রাম্য চিকিৎসকের নির্দেশে দুই দিনে ৮ যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হলে এদের মধ্যে কাওসার চিকিৎসাধিন অবস্থায় ১৯ এপ্রিল রোববার ভোর রাত ৪ টার দিকে মারা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের রাসেল ফকির,শিফাতুল্লাহ,শুক্কুর, মোয়াজ্জেম, রমজান আলী,রহিম,বেল্লাল,আব্দুল্লাহ ও মাইনুল ইসলাম সহ ২০/২৫ জনের একটি দল ১০ এপ্রিল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাবুল,মাঈনুদ্দিন ও রিয়াজ নামের তিন যুবককে করপাড়া এলাকায় পেয়ে বেদম মারধর করে বেঁেধ রাখে।

খবর পেয়ে স্থানীয় চৌকিদার আ. খালেক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি ইউএনওকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠান। পরে ওই তিন যুবককে গাঁজা সহ থানায় নিয়ে আসা হয়। চৌকিদার আ. খালেক জানান তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তিন যুবককে আহত ও বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তাদের যারা বেঁধে রেখেছিলো তারা চৌকিদারের কাছে ওই তিন যুবককের কাছে পাওয়া গাঁজার পোটলা ও তিনটি মোবাইল ফোন দেন।

ওই দিনই মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে তাদের বরিশাল জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর পরের দিন ১১ এপ্রিল শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একই দল করপাড়া গ্রাম থেকে পার্শ্ববর্তী নলশ্রী গ্রামে গিয়ে মৃত আ. রব কবিরাজের বাড়ি থেকে তার ছেলে কাওসারকে ধরে এনে বেদম মারধর করে। ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মা রওশনারা বেগমও আহত হন।

ঘটনাস্থলের অদূরে ক্রিকেট খেলারত আরিফ,মাহমুদ, শাখওয়াত ও সাইফুল বিষয়টি জেনে সেখানে এলে তাদেরকেও বেধরক মারধর করে আরিফ ও সাইফুলকে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করার ঘোষণা দেওয়া হলে এসময় শত শত লোক সেখানে জড়ো হয়। খবর পেয়ে চৌকিদার আ. খালেক ওই দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অন্য আহতরাও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ওই দুই যুবকের স্বজনরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ওই দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে আহত কাওসার আহম্মেদকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখায় সে চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হয়। ১৯ এপ্রিল রোববার তার অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনরা তাকে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন । ওই দিন রাত ৪টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

২০ এপ্রিল সোমবার সেখানে তার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। এদিকে কাওসার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত নলশ্রী গ্রামের মৃত আ. রব কবিরাজের বড় ছেলে মিজানুর রহমান কবিরাজকে ২০০৭ সালে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো।

কাওসার আহম্মেদকে হত্যা করার ব্যপারে জামিনে থাকা ওই মামলার আসামীদেরও ইন্ধন রয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেন। এদিকে এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল জানান এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।