বানারীপাড়ায় মানবতার ফেরিওয়ালা এএসআই জাহিদকে বিদায়ী সংবর্ধনা

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া প্রতিনিধি ::

বরিশালের বানারীপাড়ায় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৮ অক্টোবর রবিবার রাতে বানারীপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিদায়ী সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম,বাইশারী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন খান,প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কে এম শফিকুল আলম জুয়েল,জাকির হোসেন,সাইফুর রহমান রাসেল, প্রভাষক মামুন আহমেদ,ইলিয়াস শেখ ও জাহিন মাহমুদ,সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা,যুগ্ম সম্পাদক সজল চৌধুরী,মোঘল সুমন শাফকাত ও ফয়েজ আহম্মেদ শাওন,সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক শাহিন,ছাত্রলীগ নেতা সুমন সিদ্দিকী ও মনির হোসেন,সদস্য নাহিদ সরদার প্রমুখ।

বানারীপাড়ায় কর্মকালীণ সময়ে বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ড করে ‘মানবিকতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করা সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামকে এসময় সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত দেশে কোভিড-১৯ প্রানঘাতি নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমন শুরু হলে এএসআই জাহিদুল ইসলাম করোনাভাইরাসে মৃত্যু হলে দাফনের জন্য ১৭ শতক জমি দান করেন। তার নিজ বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি ইউনিয়নের দেউলি গ্রামের মরহুম ইসমাইল সিকদার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা কবরস্থানের জন্য এ জমি দান করেন।

মরণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালীর জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মধ্যে যদি কোনো মানুষ মারা যান তাদের দাফনের জন্য জমি না থাকলে তাদের এই কবরস্থানে দাফন দেওয়া যাবে।

এ ছাড়াও করোনাভাইরাস মহামারি ব্যতীত নদী ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের লাশ এবং বেওয়ারিশ লাশও এই কবরস্থানে দাফন দেওয়া যাবে। এএসআই জাহিদুল ইসলাম এর আগে বানারীপাড়ায় করোনাভাইরাসের বিস্তৃতিরোধে লকডাউন ও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্রদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রী ও শিশুসহ কর্মহীনদের অলস সময় পার করতে ধর্মীয় গ্রন্থ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ করে, কখনও গ্রামের চলাচল অনুপযোগী রাস্তার ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে চলাচল উপযোগী করে দিয়ে, কখনও সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো যুবককে হাঁসের খামার করে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া আবার কখনও শতবর্ষী অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে নগদ অর্থ ও নিজের রেশনের চাল-ডাল-তেল ও চিনি দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এলাকায় তিনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন।

Sharing is caring!