বানারীপাড়ার মাদক সম্রাট যুবলীগ নেতা সালাউদ্দিন সোহাগের বিরুদ্ধে র‌্যাবের মামলা

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি ॥

বরিশালের বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাদক সম্রাট সালাউদ্দিন সোহাগের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সহযোগীরা গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কে কোতয়ালী থানাধীন মেসার্স লিলি ফিলিং স্টেশনের সামনে গোপন তথ্য’র ভিত্তিতে র‌্যাব-৮’র ডিএডি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-০৩৪৩ হলুদ রংয়ের টাটা মিনি পিকআপ’র ড্রামের মধ্যে থেকে ৭শ ৮৩ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ফকির ও বাকেরগঞ্জ এলাকার হলতা (চরাদী)’র মোঃ লিটন হাওলাদারকে আটক করা হয়।

আটক কৃতদের জিঞ্জাসাবাদে বেরিয়ে আসে তাদের অর্থ যোগান, পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদদাতাদের নাম। পরে ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া ২জনের স্বীকারোক্তিনুযায়ী মামলার এজহারভুক্ত আসামী করা হয় ৬ জনকে। এরা হলেন বানারীপাড়া সলিয়াকপুর ইউনিয়নের আয়নাল হাওলাদারের ছেলে যুবলীগ নেতা সোহাগ হাওলাদার ,একই ইউনিয়নের মোকাম্মেল খানের ছেলে শাহাদাত হোসেন খান,উজিপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামের মৃত খাদেম আলী ফকিরের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ফকির, শিবনগর কাঠির গ্রামের তাহের আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ হুমায়ুন কবির,বরগুনা সদরের আঃ হামিদের ছেলে মোঃ মেহেদি হাসান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র‌্যাব-৮’র ডিএডি আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় এ মামলা দায়ের করেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ছাত্রদল নেতা বনে যান সালাউদ্দিন সোহাগ। এক সময় পরিচয়ের আড়ালে চালাতে থাকেন তার মাদক বিকি-কিনির বিশাল সামরাজ্য। তবে আচার ব্যবহারে অনেকটা ভদ্রবেশী হওয়ায় সকলের কাছে তার কর্মকা- ছিলো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট সরকার গঠন করার পরে সুচতুর সালাউদ্দিন সোহাগ তার ভোল পাল্টে হয়ে যান যুবলীগ নেতা। তারপর থেকে সলিয়াবাকপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বাগিয়ে নেন সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়কের পদ। যে কমিটি যুগ পেরিয়ে যাবার পরেও আজও চলমান রয়েছে।

এরপরে তাকে আর কে পায় ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী যুবকলীগ নেতা এবং আন্তঃবিভাগীয় মাদক সম্রাট। সিন্ডিকেট’র মাধ্যমে বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার কয়েক যুবক এক হয়ে তারা চালাতে থাকে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। উল্লেখিত আসামীদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদক আইনে অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে উঠে আসে রাজনৈতিক খেতাব ব্যবহার করে এবং নেতাদের শেল্টারে থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বানারীপাড়ার আসামীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সালাউদ্দিন সোহাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হন। পরে কমিটি ঘোষনা করতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় শীর্ষ জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সামনে সোহাগের সঙ্গীরা বিক্ষোভ করে। এর পরেও তার নাম প্রস্তাব না হওয়ায় পরের দিন সকালে বানারীপাড়া পৌর শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করা হয়। এখন পর্যন্ত ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

অনুসন্ধান করে তথ্য উপাথ্য সংগ্রহে সংবাদটি প্রকাশ করতে বিলম্ব হওয়ায় আরও জানা যায় এই সোহাগ এলাকায় সব সময় ভদ্রবেশে চলাফেরা করতো। পোশাক, মোটরবাইক আর চলনি স্টাইল ছিলো অন্য দশ জনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। চাকরি না করলেও এলাকার সাধারণ মানুষ জানতো না আসলে তার মূল ব্যবসাটা কি? অবশেষে চিরাচরিত সেই প্রভাতবাক্য’ই সত্য হলো ‘চোরের দশদিন আর গৃহস্তের একদিন’।

Sharing is caring!